অভিবাসন সংকটে এবার একসঙ্গে ইইউ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া নজর

eu-ceuta-migration-crisis-social-media-monitoring

সেউতা অঞ্চলের সাম্প্রতিক অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধের পর ভবিষ্যতে আরও ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত সম্ভাব্য সংকটের আগাম সতর্কতা পেতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে জোটটি।

মঙ্গলবার ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভিডিও সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া লুক্সেমবার্গের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেওন গ্লোডেন বলেন, ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে আরও দ্রুত, লক্ষ্যভিত্তিক ও সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ কাজে ফ্রন্টেক্সের মতো ইউরোপীয় সংস্থাগুলোকে কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি।

সেউতায় ৭২ হাজার মানুষের প্রবেশ

স্পেন সরকারের নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মরক্কো থেকে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সাময়িকভাবে স্পেনের সেউতা অঞ্চলে প্রবেশ করেন। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজারই ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফিরে গেছেন।

এদিকে আরও তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পর সংকটকে ঘিরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

সেউতা সংকটের জেরে ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২২টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান একটি খোলা চিঠিতে স্পেনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেন। তবে লুক্সেমবার্গ ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেনি।

অন্যদিকে স্পেনের সরকার অভিযোগ করে, কিছু সদস্য দেশ রাজনৈতিক স্বার্থে সংকটটিকে ব্যবহার করছে। ডেনমার্ক ও ইতালি এমনকি স্পেনকে শেনজেন এলাকা থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিল।

লুক্সেমবার্গের মন্ত্রী গ্লোডেন বলেন, অভিবাসন সংকট দেখা দিলেই শেনজেন ব্যবস্থাকে দায়ী করা উচিত নয়। তাঁর মতে, শেনজেন সমস্যা নয়; বরং সমাধানের অংশ।

স্পেনের পদক্ষেপের প্রশংসা

বিশেষ বৈঠকের পর ইইউর পক্ষ থেকে বলা হয়, সেউতার পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। বৈঠকে সদস্য দেশগুলো স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বলেও জানানো হয়।

ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনুস ব্রুনার বলেন, আপাতত ইউরোপ এই সংকটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাঁর দাবি, কেউ শেনজেন এলাকায় প্রবেশ করতে পারেনি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা দ্রুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্লোডেন আরও বলেন, গত দুই বছরে ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন ৫৫ শতাংশ কমেছে এবং চলতি বছর এ পর্যন্ত কমেছে ৩৭ শতাংশ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজর

সেউতা সংকটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টের মাধ্যমে তারা সীমান্ত খোলার খবর জানতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত এমন প্রত্যাশাও ছড়িয়ে পড়ে যে সেউতায় পৌঁছালে থাকার ব্যবস্থা পাওয়া যাবে এবং সেখান থেকে স্পেনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ মিলবে।

এ কারণে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই সংকেত শনাক্ত করতে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছে ইইউ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সম্ভাব্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি মঙ্গলবারের বৈঠকের পর প্রকাশিত বিবৃতিতেও উঠে এসেছে।

সেউতার অভিবাসন সংকটকে নতুন সাধারণ ইউরোপীয় আশ্রয়ব্যবস্থার প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অভিবাসনের বোঝা ভাগাভাগি নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে, তা দূর করে সংহতির ভিত্তিতে অনিয়মিত অভিবাসনের চাপ মোকাবিলাই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

লুক্সেমবার্গের মন্ত্রী গ্লোডেনের মতে, সেউতা সংকটে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সংহতি ও দায়িত্বশীলতা, দ্রুত ও কার্যকর প্রক্রিয়া, বহির্সীমান্ত শক্তিশালী করা এবং তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা।