প্রবাসীদের জন্য নতুন ঘোষণা, সিআইপি মর্যাদা পাবেন ১৩৫ বাংলাদেশি

Probashi kallyan Ministry

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, রেমিট্যান্স ও বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে অবদানের স্বীকৃতি দিতে এবার তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জনকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর মধ্যে বাংলাদেশে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী হিসেবে সর্বোচ্চ ৭৫ জন প্রবাসীকে সিআইপি নির্বাচিত করা হবে। এছাড়া দেশের শিল্প খাতে সরাসরি বিনিয়োগকারী ৫০ জন এবং বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী ১০ জনকে এই মর্যাদা দেওয়া হবে।

শিল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫০ জন

প্রথম ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ৫০ জনকে নির্বাচিত করা হবে।

এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের শিল্প খাতে মূলধন হিসেবে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সরাসরি বিনিয়োগ করেছেন—এমন প্রবাসীদের বিবেচনা করা হবে।

রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সিআইপি হওয়ার সুযোগ

দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে বৈধ চ্যানেলে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ জন নির্বাচিত হবেন।

এ জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানোর শর্ত রাখা হয়েছে।

প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে ১০ জন

তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী সর্বোচ্চ ১০ জন প্রবাসীকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে হবে।

এ ক্যাটাগরিতে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেটের (পিআরসি) মাধ্যমে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আবেদন করা যাবে সেপ্টেম্বরজুড়ে

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস বা মিশন কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরাসরি হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগও থাকছে না।

অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই আবেদন বা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বাতিল কিংবা স্থগিত করার অধিকার সংরক্ষণ করেছে।

পাঁচ বছরে ৩২৬ প্রবাসী পেয়েছেন সিআইপি মর্যাদা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে গত পাঁচ বছরে ৩২৬ জন সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন।

এ তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসীরা। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটি থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী শুধু সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠানোর কারণে সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। অর্থাৎ পাঁচ বছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই এই ক্যাটাগরিতে মোট ১৪৯ জন সিআইপি হয়েছেন।

এ ছাড়া বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাঁচ বছরে আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন।

রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের শর্তে আবেদনের সুযোগ থাকায় প্রতিবছর সিআইপির জন্য আবেদনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। এবার আগের সীমা ছাড়িয়ে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে সিআইপি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।