‘সুইপার-হারপিক আনেন, আমি পরিষ্কার করি’—হাসপাতালের নোংরা শৌচাগার দেখে ক্ষুব্ধ কৃষিমন্ত্রী

agriculture-minister-cumilla-medical-hospital-toilet

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের শৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পরিস্থিতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি। যদি আমি পারি, তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব, আপনি কেন পারলেন না?”

হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রায় ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেট দুনিয়ায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান কৃষিমন্ত্রী। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার পাশাপাশি শৌচাগার, বৈদ্যুতিক পাখা ও সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

‘সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কৃষিমন্ত্রী।

একপর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালকের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সুইপার আর হারপিকটা নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করি।”

টাইলসের কালো দাগ দেখিয়ে মন্ত্রী বলেন, “টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়। হারপিক ব্যবহার করলে এসব দাগ পরিষ্কার হয়ে যায়।”

এরপর হাসপাতালের শৌচাগারগুলোর অবস্থা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “বাথরুমগুলোর জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে দেখব, বাথরুম আছে ছয়টা, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত বাথরুমটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন। আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাউ।”

হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে রোগী ও স্বজনদের জন্য প্রয়োজনীয় শৌচাগারগুলোর এমন অবস্থা কেন, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নষ্ট পাখাও দ্রুত মেরামতের নির্দেশ

শুধু শৌচাগারের অপরিচ্ছন্নতাই নয়, হাসপাতালের বেশ কিছু বৈদ্যুতিক পাখার নাজুক অবস্থাও কৃষিমন্ত্রীর নজরে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা পাখাগুলো দ্রুত মেরামত করতে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন কৃষিমন্ত্রী।

যা বললেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, শৌচাগারগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, হাসপাতালের শৌচাগারসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতার কাজে ১১ জন সরকারি এবং ৬৩ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।

পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক।

এদিকে কৃষিমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শৌচাগার ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।