AIMA-তে সেবা বেড়েছে ৬০ শতাংশের বেশি, অভিযোগ কমছে

AIMA

পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা এজেন্সি ফর ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম (AIMA) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তাদের সরাসরি সেবা দেওয়ার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে গ্রাহকের অভিযোগ কমেছে এবং প্রশংসার সংখ্যাও বেড়েছে। সংস্থাটির দাবি, জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত AIMA স্টোরগুলোতে কার্যকর সেবার সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে

১১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে AIMA বলেছে, সেবা বৃদ্ধির এই প্রবণতা প্রথম ছয় মাসের প্রতিটি মাসেই ধারাবাহিক ছিল। সংস্থাটির মতে, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও কার্যক্রমে পরিবর্তনের ফলে এই উন্নতি হয়েছে।

অভিযোগ কমেছে ৩৫.৮ শতাংশ

AIMA-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অভিযোগের সংখ্যা ৩৫.৮ শতাংশ কমেছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, মোট সেবার তুলনায় অভিযোগের গড় হার ২০২৫ সালের ৬.৯ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে ২.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। AIMA বলছে, এই পরিবর্তন সেবার মান, ব্যবস্থাপনা ও প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

পর্তুগালে দীর্ঘদিন ধরেই রেসিডেন্স পারমিট, নবায়ন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগ রয়েছে। PortuBangla-র আগের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, AIMA-র আবেদনজট কমলেও অনেক আবেদনকারীকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। নতুন পরিসংখ্যান সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মাসে গড়ে ৩২টি প্রশংসা

অভিযোগ কমার পাশাপাশি AIMA স্টোরগুলোতে নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাও বেড়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে AIMA স্টোরগুলোতে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৩২টি প্রশংসা নথিভুক্ত হয়েছে। AIMA এই সংখ্যাকে সেবার মান নিয়ে ব্যবহারকারীদের বাড়তে থাকা সন্তুষ্টির প্রতিফলন হিসেবে দেখছে।

একই সময়ে সংস্থাটি ইলেকট্রনিক ইয়েলো বুক ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ডিজিটালভাবে অভিযোগ ও মতামত জানাতে পারছেন। AIMA বলছে, নতুন ব্যবস্থাটি স্বচ্ছতা ও নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।

অনলাইন সেবাও বাড়াচ্ছে AIMA

সরাসরি সেবার পাশাপাশি AIMA সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনলাইন কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করেছে।

PortuBangla-র প্রতিবেদনে এর আগে জানানো হয়েছিল, সংস্থাটি রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের অনলাইন সেবা বাড়ানোর পাশাপাশি জনবলও বৃদ্ধি করছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারীকে আগের মতো প্রতিটি ধাপে সরাসরি AIMA অফিসে যেতে হচ্ছে না।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ২০২৬-এ যাদের রেসিডেন্স পারমিটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের জন্য AIMA অনলাইন রিনিউয়াল পোর্টালও চালু করেছে

সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট প্রক্রিয়াও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্নের লক্ষ্য নিয়ে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়তে পারেন পর্তুগালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটে ৩০ দিনের লক্ষ্য প্রতিবেদনে।

প্রবাসীদের ভোগান্তি কি তাহলে কমছে?

AIMA-র সর্বশেষ পরিসংখ্যান ইতিবাচক হলেও এর অর্থ এই নয় যে পর্তুগালের সব অভিবাসন-সংক্রান্ত জটিলতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

রেসিডেন্স পারমিট, ফ্যামিলি রিইউনিফিকেশন, নতুন আবেদন, কার্ড ইস্যু এবং নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির অ্যাপয়েন্টমেন্টে এখনও অনেক আবেদনকারীকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে সেবার সংখ্যা ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি এবং অভিযোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

AIMA নিজেও বলছে, তারা সেবার আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নাগরিককেন্দ্রিক সেবা আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাবে।

পর্তুগালে AIMA-সংক্রান্ত যেকোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা রেসিডেন্স পারমিট প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীরা সরাসরি AIMA-এর সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ আপডেট দেখতে পারেন।

এক নজরে AIMA-র নতুন পরিসংখ্যান

বিষয়তথ্য
সময়কালজানুয়ারি–জুন ২০২৬
কার্যকর সেবা বৃদ্ধি৬০ শতাংশের বেশি
অভিযোগ হ্রাস৩৫.৮ শতাংশ
২০২৫ সালে অভিযোগের গড় হার৬.৯ শতাংশ
২০২৬ সালে অভিযোগের গড় হার২.৭ শতাংশ
মাসিক গড় প্রশংসাপ্রায় ৩২টি