গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছিল জোটটি। রংপুর অভিমুখের কর্মসূচি তাদের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ। এবারের কর্মসূচিতে জাতীয় বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে।
কী কী রয়েছে আট দফা দাবিতে
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।
আগের ছয় দফার সঙ্গে পরে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত করা হয়। রংপুরের কর্মসূচিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিও যোগ হওয়ায় মোট দাবি দাঁড়িয়েছে আট দফায়।
ঢাকা থেকে রংপুর, পথে একাধিক কর্মসূচি
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর লংমার্চের গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে।
দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সম্ভাব্য দুর্ভোগের জন্য তাঁরা আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের কাছে কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা চেয়েছেন। নেতা-কর্মীদেরও উসকানির মুখে সংযম দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রংপুরের পর আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার কথা রয়েছে। চারটি আঞ্চলিক লংমার্চ শেষে ঢাকায় সমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে জোটটির।
