আগের বিকেলে দ্রুত তিন উইকেট হারানোর অস্বস্তি ছিল। লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে চতুর্থ দিনের সকালটা হয়ে উঠল বাংলাদেশের। লিটনের সেঞ্চুরি ও মিরাজের অপরাজিত ফিফটিতে আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
সোমবার শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। লিটন অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে, মিরাজ তখনো রানের খাতা খোলেননি। প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের সুবিধা মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড ছিল ৩২৯। সেখান থেকে লঙ্কা নয়, আফগান বোলারদের হতাশ করে দলের অবস্থান আরও শক্ত করেন এই দুই ব্যাটার।
লিটন শেষ পর্যন্ত করেন ১১৭ বলে ১০২ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৪টি চার। অন্য প্রান্তে মিরাজ ৯৭ বলে ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন, মারেন পাঁচটি চার। সপ্তম উইকেটে তাঁদের ১৪৯ রানের জুটি বাংলাদেশের লিডকে নিয়ে যায় আফগানিস্তানের ধরাছোঁয়ার অনেক দূরে।
অবশ্য দিনের শুরুতে সুযোগ পেয়েছিল আফগানিস্তান। কাইস আহমদের বলে লিটনের ক্যাচ নিতে পারেননি স্লিপে থাকা শহীদুল্লাহ কামাল। পরে নিজের বলেও ফিরতি ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হন কাইস। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ নেন লিটন। মিরাজও তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। মধ্যাহ্নবিরতির আগে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৪ রান যোগ করে বাংলাদেশ। বিরতিতে লিটন ছিলেন ৮১ রানে, মিরাজ ৩৮ রানে।
এই বড় সংগ্রহের ভিত অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে ১৫৯ রান যোগ করেন তাঁরা। শান্ত করেন ৮২, মুশফিক ৮১ রান। তবে দিনের শেষ দিকে তাঁদের দুজন এবং হাসান মাহমুদের বিদায়ে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ। লিটন–মিরাজের জুটি সেই চাপ কাটিয়ে দেয়।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের জবাবে আফগানিস্তান থামে ২৪০ রানে। হ্যাটট্রিকসহ হাসান মাহমুদের ৫ উইকেট ও এবাদত হোসেনের ৪ উইকেটে প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ লিড পায় বাংলাদেশ। আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ অপরাজিত ছিলেন ১০৫ রানে।
বড় লক্ষ্য তাড়ার শুরুতেই আফগানিস্তানকে ধাক্কা দিয়েছেন এবাদত। তাঁর বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২ রানে ফেরেন আবদুল মালিক। প্রতিবেদন তৈরির সময় ৫ ওভারে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৮ রান; জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ৪৬১ রান।
ম্যাচের পরবর্তী খবর দেখুন বাংলাদেশ–আফগানিস্তান টেস্টের লাইভ স্কোর ও আপডেটে।
