বসনিয়ায় বাড়ছে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার, তালিকায় বাংলাদেশিরাও

bangladeshi-migrants-bosnia-border-2026

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে বা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের জাতীয়তার তালিকায় মিসর, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পরই রয়েছে বাংলাদেশ।

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার সীমান্ত পুলিশ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৯৩ জনকে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে অথবা এ ধরনের চেষ্টার সময় শনাক্ত করেছে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৭৬ শতাংশ বেশি। দেশটির মন্ত্রী পরিষদ সম্প্রতি গৃহীত ‘বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় অভিবাসন পরিস্থিতি’ বিষয়ক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশি শনাক্ত হয়েছেন ৬৮ জন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সময় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছেন মিসরের ১৩৬ জন নাগরিক।

এরপর রয়েছেন আফগানিস্তানের ১১৫ জন, পাকিস্তানের ১১৩ জন, বাংলাদেশের ৬৮ জন এবং তুরস্কের ৬৩ জন নাগরিক।

এই হিসাবে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার বা চেষ্টার সময় সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া পাঁচ দেশের নাগরিকের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

নিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৬ শতাংশ

বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার বিদেশি নাগরিকবিষয়ক পরিষেবা বা Service for Foreigners’ Affairs-এর কাছে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন অভিবাসীর তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে।

২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮৫। এক বছরের ব্যবধানে নিবন্ধিত অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

অস্থায়ী অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোতেও মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে গড়ে ৯২৫ জন অবস্থান করেছেন। গত বছরের একই সময়ে গড় সংখ্যা ছিল ৫৮১।

কর্মসংস্থানের জন্য বাড়ছে অস্থায়ী রেসিডেন্স পারমিট

একই সময়ে বসনিয়া-হারৎসেগোভিনায় ৪ হাজার ৫৬৯টি অস্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা temporary residence permit দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এটি ২৩ শতাংশ বেশি। এসব অনুমতি দেওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ ছিল কর্মসংস্থান।

সীমান্ত নজরদারি ও নিরাপত্তায় জোর

অভিবাসন পরিস্থিতির পাশাপাশি বসনিয়া-হারৎসেগোভিনার মন্ত্রী পরিষদ ২০২৫ সালের সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে।

এতে সীমান্তে তল্লাশি ও নজরদারি, আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক সুরক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আচরণ, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একই বৈঠকে দেশটির রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও সুরক্ষা সংস্থা SIPA-এর জন্য বিশেষায়িত সরকারি যানবাহন কেনা ও ব্যবহারের একটি বিধিমালার প্রস্তাবেও সম্মতি দেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত বিধিমালায় ১৮০টি বিশেষায়িত যানবাহনের কথা রয়েছে। চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা এসব যানবাহনের প্রতিটির ক্রয়মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার বসনীয় কনভার্টিবল মার্কের মধ্যে রাখা হয়েছে।

দুর্নীতিবিরোধী সুপারিশ বাস্তবায়নে সীমিত অগ্রগতি

মন্ত্রী পরিষদ ইউরোপ কাউন্সিলের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা GRECO-এর পঞ্চম মূল্যায়ন পর্বের সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও তথ্য গ্রহণ করেছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে GRECO-এর মূল্যায়নে দেখা যায়, বসনিয়া-হারৎসেগোভিনা মোট ২৫টি সুপারিশের মধ্যে মাত্র দুটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে। ১৫টি আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং আটটি বাস্তবায়িত হয়নি।

সর্বশেষ অগ্রগতির তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের নভেম্বরে দেশটির অবস্থান আবার মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে সংগঠিত অপরাধ দমনের কৌশল বাস্তবায়ন নিয়ে একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে মন্ত্রী পরিষদ। প্রতিবেদনে চারটি কৌশলগত লক্ষ্যের অধীনে ৫১টি কার্যক্রমের মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি এবং ২২টি আংশিক বাস্তবায়িত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।