অভিষেক–সঞ্জু–ইশান: নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে কেমন করবে ভারতের টপ অর্ডার

india-top-order-abhishek-sanju-ishan

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চাপে ফেলার সামর্থ্য আছে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিশানের। তবে নিউজিল্যান্ডে ভারতের এই তিন ব্যাটারের সামনে চ্যালেঞ্জটা ভিন্ন। হ্যাগলি ওভালের বাউন্স ও বলের মুভমেন্ট সামলে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা কতটা খেলতে পারবেন তাঁরা, প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে সেটিই বড় প্রশ্ন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ক্রাইস্টচার্চে শুরু হচ্ছে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ঘরের মাঠের পরিচিত পরিবেশ থেকে নিউজিল্যান্ডে এসে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে ভারতকে। শ্রেয়াস আইয়ারের দলের জন্য টপ অর্ডারের শুরুটা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

অভিষেকের সামনে আগ্রাসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ

অভিষেক শুরুতেই রান তোলার গতি বাড়াতে পারলে ভারতের পরের ব্যাটারদের কাজ সহজ হবে। কিন্তু নতুন বলে মুভমেন্ট থাকলে প্রথম কয়েকটি ডেলিভারিতে উইকেটের আচরণ বোঝাও জরুরি।

কৌশলগতভাবে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে শট বাছাই। বলের গতি ও বাউন্স বুঝে আক্রমণ করলে পাওয়ারপ্লের সুবিধা কাজে লাগানো সম্ভব। বিপরীতে শুরু থেকেই প্রতিটি বল বড় শট খেলার চেষ্টা করলে উইকেট হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।

সঞ্জুর কাছে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিংয়ের প্রত্যাশা

সঞ্জুর ব্যাটিংয়ে টাইমিং গুরুত্বপূর্ণ। বল ব্যাটে ভালোভাবে এলে মাঠের বিভিন্ন দিকে রান করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বল সিম করে দিক বদলালে শরীর থেকে দূরে ব্যাট চালানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

শুরুতে উইকেট পড়লে তাঁর দায়িত্ব হবে জুটি গড়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়া। আবার ভালো শুরু পেলে সেই গতি ধরে রাখাও প্রয়োজন। অর্থাৎ পরিস্থিতি বুঝে আক্রমণের মাত্রা বদলানোর সামর্থ্যই এখানে কাজে আসতে পারে।

ইশানের জন্য বাউন্স সামলানোর পরীক্ষা

ইশানের ক্ষেত্রেও মূল প্রশ্ন নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া। অতিরিক্ত বাউন্স পাওয়া গেলে কাট ও পুল থেকে রান আসতে পারে, তবে বলের উচ্চতা ভুল বুঝলে একই শট বিপদ ডেকে আনবে।

বাউন্ডারি আটকে গেলে এক-দুই রান নিয়ে স্কোর সচল রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হবে। এতে ডট বলের চাপ কমবে এবং বড় শট খেলার জন্য সুবিধাজনক ডেলিভারির অপেক্ষা করা সহজ হবে।

পাওয়ারপ্লেতে রান ও উইকেটের ভারসাম্য

ভারতের টপ অর্ডারের জন্য প্রথম ছয় ওভারে শুধু দ্রুত রান করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; উইকেট হাতে রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে একাধিক উইকেট হারালে মধ্যক্রমকে আক্রমণের বদলে ইনিংস মেরামতে সময় দিতে হবে।

এই তিনজনই একাদশে থাকলে কে কোথায় ব্যাট করবেন, সেটিও ভূমিকা রাখবে। ওপেনার ও তিন নম্বর ব্যাটারের দায়িত্ব এক নয়। তাই চূড়ান্ত ব্যাটিংক্রম নিশ্চিত হওয়ার আগে প্রত্যেকের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।

হ্যাগলি ওভালে পেসারদের সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনার কথা ম্যাচের প্রিভিউতে উঠে এসেছে। তবে ম্যাচের দিনের পিচ, আবহাওয়া ও নতুন বলের আচরণই নির্ধারণ করবে ব্যাটিং কতটা কঠিন হবে। অভিষেক–সঞ্জু–ইশানের পরীক্ষা হবে সেই পরিস্থিতি বুঝে নিজেদের পরিকল্পনা বদলাতে পারায়।