পর্তুগালের লিসবন ও পোর্তোয় আবাসনের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে খোলা চিঠি দিয়েছেন ৪৩০ জন আইনজীবী। তাঁদের দাবি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটাসহ পুলিশের কিছু পদক্ষেপ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে। এ ধরনের অভিযান বন্ধ করতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
গত সপ্তাহান্তে দুই শহরের বিক্ষোভস্থলে পুলিশি অভিযানের পর এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বিশেষ করে আবাসন আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্থাপন করা তাঁবু সরিয়ে দেওয়া এবং সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের বক্তব্য, তাঁরা যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোতে বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বসে, দাঁড়িয়ে বা শুয়ে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর মতো আচরণ না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আইনজীবীদের।
বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের আইনি ব্যাখ্যাও চ্যালেঞ্জ করেছেন স্বাক্ষরকারীরা। তাঁদের মতে, আবাসনের দাবিতে আন্দোলনে তাঁবু স্থাপন ও সেখানে রাত কাটানো প্রতিবাদের বার্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে এসব কর্মসূচিকে সাধারণ ক্যাম্পিং হিসেবে বিবেচনা করে সরিয়ে দেওয়ার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
আইনজীবীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো স্থান ছাড়ার নির্দেশ আইনসম্মত না হলে তা অমান্য করলেই বিক্ষোভকারী অপরাধ করেছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। একইভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অবৈধ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগে উৎসাহিত করলে তা পালন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এটি চিঠিতে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীদের অবস্থান; আদালতের কোনো রায় নয়।
চিঠির অন্যতম স্বাক্ষরকারী তিয়াগো রদ্রিগেস বাস্তোস মনে করেন, পুলিশের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, তার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
আরেক স্বাক্ষরকারী রিকার্দো সা ফার্নান্দেস পুলিশি অভিযানের নির্দেশদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু মাঠপর্যায়ে নির্দেশ পালনকারী সদস্যদের দায়ী করলেই হবে না; অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত কারা দিয়েছেন, সেটিও চিহ্নিত করতে হবে।
পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছে পর্তুগালের নারী আইনজ্ঞদের সংগঠনও। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি নিরাপত্তা বাহিনীর আচরণকে কর্তৃত্ববাদী বলে অভিহিত করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস নেভেসকে এ ধরনের পুলিশি হস্তক্ষেপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি অভিযানে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণে স্বরাষ্ট্র প্রশাসনের মহাপরিদর্শন সংস্থা আইজিএআইকে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে।
