ইতালিতে রেমিট্যান্সে রেকর্ড, শীর্ষে বাংলাদেশিরা

italy remittance record bangladeshis top

ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। Bank of Italy-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশি বাসিন্দারা নিজ নিজ দেশে মোট ৮.৬ বিলিয়ন ইউরো পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৯ শতাংশ বেশি। এই তথ্যটি ১০ এপ্রিল প্রকাশ করে ANSA।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশি শ্রমিকরা সর্বোচ্চ অংশীদারিত্ব (১২%) নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। তারা ফিলিপিনো ও মরক্কানদের ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া ভারতীয়দের রেমিট্যান্সও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে মোটের ৬.৯ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইতালির Lombardy, Lazio এবং Veneto অঞ্চল থেকে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এসেছে। এসব অঞ্চলে লজিস্টিকস, কেয়ার-ওয়ার্ক এবং হসপিটালিটি খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান ইতালির অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরতা স্পষ্ট করে। জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে কর আদায়ে চাপ তৈরি হওয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। যদিও রেমিট্যান্স দেশটির জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ, তবে উৎস দেশগুলোর পারিবারিক ব্যয় ও অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিদেশে স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ বাড়লে অনিয়মিত অভিবাসন কমতে পারে এবং নিজ দেশে উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করবে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশে বেশি বেতনের সুযোগ থাকায় দক্ষ শ্রমিকদের ধরে রাখা ইতালির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

এদিকে, ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, অর্থপাচার প্রতিরোধ (AML) সংক্রান্ত কঠোর নিয়মের কারণে ১২ শতাংশ বেশি লেনদেন অতিরিক্ত যাচাইয়ের আওতায় এসেছে।

অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে VisaHQ-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কাজ করছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা অনলাইনে ইতালির ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন।

অন্যদিকে, Wise এবং Azimo-এর মতো ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো কম ফি (১ শতাংশের নিচে) নিয়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

আগামী মে মাসে ইতালির ‘ডিক্রি-ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালের জন্য ১ লাখ ৫৮ হাজার ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। প্রধানমন্ত্রী Giorgia Meloni-এর সরকার নির্মাণ ও কৃষি খাতে শ্রম সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নিয়েছে।