শিশু রামিসা হত্যা: খুনি সোহেলের জবানবন্দিতে উঠে এলো আঁতকে ওঠার মত তথ্য 

Ramisa Murder

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে আসামি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির দেহ খাটের নিচে পাওয়া যায় এবং বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয় একটি বালতি থেকে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার সময় অভিযুক্ত সোহেল রানা মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে। নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের কোনো পূর্ব শত্রুতার তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হলে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা। তখন ফ্ল্যাটের কক্ষে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত দেহ এবং একটি বালতিতে তার মাথা দেখতে পান তারা।

জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনায় Pallabi Police Station-এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার পর মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে।

এই ঘটনায় ল্লবী থানায় -এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।