ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

brazil-vs-scotland-vinicius

ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। ম্যাচে জোড়া গোল করেছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এছাড়া তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার।

বুধবার মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৪৭৮ জন দর্শক। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে স্কটল্যান্ডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।

ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় ব্রাজিল। স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে রায়ান দারুণভাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাছে পাস দেন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

প্রথমার্ধে আরও একটি গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস, তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল করা হয়। তবুও বিরতির ঠিক আগে আবারও আঘাত হানেন তিনি। ব্রুনো গিমারাইসের ক্রসে হেড করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে ব্রাজিল। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে আবারও গিমারাইসের নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন মাতেউস কুনহা। টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে শেষ দিকে। দীর্ঘ তিন বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামেন নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম জাতীয় দলের হয়ে খেললেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। তাকে মাঠে নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়াম করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে পুরো ম্যাচে আক্রমণে কার্যত নিষ্প্রভ ছিল স্কটল্যান্ড। ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসনকে খুব একটা পরীক্ষা নিতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত কোনো গোল হজম না করেই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে রানার-আপ হিসেবে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।

টানা তিন ম্যাচে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত ফর্ম ধরে রেখেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বর্তমানে চার গোল নিয়ে তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে রয়েছেন। তার সামনে আছেন শুধুমাত্র লিওনেল মেসি।