পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় চারটি ট্রাভেল এজেন্সিতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। বিদেশি নাগরিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তারা বিভিন্ন সরকারি নথি সংগ্রহের জন্য অর্থ দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে সেসব নথি জাল বা অবৈধ বলে সন্দেহ তৈরি হয়।
PSP-এর Lisbon Metropolitan Command, Tax Authority এবং Social Security Institute যৌথভাবে Arroios ও Santa Maria Maior এলাকায় এ অভিযান চালায়।
পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের পর তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগকারীরা জানান, তারা অফিসিয়াল ডকুমেন্ট পাওয়ার আশায় কিছু প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। পরে ওই নথিগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।
অভিযানে একটি সন্দেহভাজন ফৌজদারি অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া কপিরাইট, শ্রম আইন, নিরাপত্তা বিধি, কর সংক্রান্ত নিয়ম এবং কাস্টমস আইনের আওতায় একাধিক প্রশাসনিক অনিয়ম পাওয়া গেছে।
অভিযানের সময় কর্তৃপক্ষ ২০টির বেশি ইনফ্রাকশন নোটিশ জারি করে। এর মধ্যে চারটি ক্ষেত্রে ইনভয়েস না দেওয়ার অভিযোগ এবং একটি ক্ষেত্রে অনিয়মিত ইনভয়েস প্রদানের অভিযোগ পাওয়া যায়।
এছাড়া পর্তুগালের অফিসিয়াল ট্রাভেল এজেন্সি রেজিস্ট্রি RNAVT-তে নিবন্ধন না থাকার অভিযোগও পাওয়া গেছে। শ্রম আইন সংক্রান্ত তিনটি অনিয়মও শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে কর্মী নিয়োগের তথ্য কর্তৃপক্ষকে না জানানো, চুক্তির অনিয়ম এবং ঘোষিত পারিশ্রমিক পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে।
অতিরিক্তভাবে, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে অ্যালকোহল বিক্রি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত বাধ্যতামূলক নোটিশ না থাকা, অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপনে ঘাটতি এবং বৈধ ট্যাক্স স্ট্যাম্প ছাড়া তামাকজাত পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ অভিযানকালে ৮৬ প্যাকেট তামাক জব্দ করেছে।
PSP আরও জানায়, নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগে সাতটি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক complaints book ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা করছিল।
পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা বিভিন্ন খাতে নথি জালিয়াতি, শ্রম আইন লঙ্ঘন, কর ফাঁকি এবং ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
Source: Executive Digest / LUSA
