জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ইকুয়েডর

ecuador-beat-germany-FIFA-worldcup

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে ইকুয়েডর। গ্রুপ ‘ই’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই মিনিটেরও কম সময়ে পিছিয়ে পড়েও শক্তিশালী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গঞ্জালো প্লাতার জয়সূচক গোলে ইতিহাস গড়ে নকআউট পর্বে উঠেছে ইকুয়েডর।

ম্যাচের শুরুতেই জার্মানির হয়ে লেরয় সানে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে গোলটি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ইকুয়েডরের দাবি ছিল, গোল হওয়ার আগে আলেকজান্ডার পাভলোভিচের উঁচু বুটে পেদ্রো ভিতে ফাউলের শিকার হলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যেতে দেন। সেই আক্রমণ থেকেই ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাসে প্রথমবারের শটে গোল করেন সানে।

প্রথম ধাক্কা সামলে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে ইকুয়েডর। জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার ভুলে বল পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দারুণ এক নিচু শটে জালে বল পাঠান সান্ডারল্যান্ড উইঙ্গার নিলসন অ্যাঙ্গুলো। সাত মিনিটের ব্যবধানে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা।

বিরতির পর জার্মানি আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। কাই হাভার্টজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে সানের ফাউল ছিল। ফলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।

ঘণ্টার মাথায় কোচ জুলিয়ান নাগেলসমান বদলি হিসেবে নামান ডেনিজ উনদাভকে। তবে ম্যাচের গতি পাল্টাতে পারেনি জার্মানি। একদিকে এননার ভ্যালেন্সিয়ার শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান ম্যানুয়েল নয়্যার, অন্যদিকে নয়্যার ও জোনাথান তাহর ভুল বোঝাবুঝিতে ইকুয়েডর আরও একটি সুযোগ তৈরি করলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি প্লাতা।

জার্মানির সবচেয়ে বড় সুযোগটি নষ্ট করেন লেরয় সানে। গোলরক্ষকের সামনে একা পেয়েও দুর্বল শটে বল মারেন তিনি। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মূল্য চুকাতে হয় জার্মানিকে।

ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কর্নার থেকে কেভিন রদ্রিগেজের হেড ফ্লিকের পর গোলমুখে থাকা গঞ্জালো প্লাতা কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে ইকুয়েডরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই গোলেই নিশ্চিত হয় ঐতিহাসিক জয়।

এই পরাজয়ে জার্মানির টানা ১১ ম্যাচের জয়ের ধারাও থেমে যায়। যদিও গ্রুপসেরা হিসেবে তারা আগেই নকআউট নিশ্চিত করেছিল। অন্যদিকে ইকুয়েডর সেরা আট তৃতীয় স্থানধারী দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি তাদের দ্বিতীয়বার নকআউট পর্বে ওঠার কীর্তি।

এখন নকআউট পর্বে জার্মানি আগামী সোমবার ফক্সবরোতে আরেকটি তৃতীয় স্থানধারী দলের মুখোমুখি হবে। ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই হবে তাদের প্রথম নকআউট ম্যাচ।