ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পুনরুদ্ধার তহবিল থেকে ৬২০ মিলিয়ন ইউরো পেতে আগামী দুই মাসের মধ্যে সামাজিক ভাতা সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে পর্তুগালকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইন কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে দেশটি এই অর্থ হারাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় কমিশন।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম জোর্নাল দে নেগোসিওস জানিয়েছে, প্রেস্তাসাঁও সোশিয়াল উনিকা (PSU) বা সিঙ্গেল সোশ্যাল বেনিফিট-সংক্রান্ত আইন আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সরকারি গেজেটে প্রকাশ ও কার্যকর করতে হবে। এই সংস্কার পর্তুগালের রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্ল্যান (PRR)-এর আওতায় ইইউর অর্থ ছাড়ের অন্যতম শর্ত।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ১৩টি অ-অবদানভিত্তিক (Non-contributory) সামাজিক ভাতা একীভূত করে একটি একক সামাজিক ভাতা চালু করা হবে। তবে নতুন ভাতার পরিমাণ, কারা এই সুবিধা পাবেন এবং কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, আইন প্রণয়নের জন্য পর্তুগালের সংসদ সরকারকে অতিরিক্ত সময় দিলেও ব্রাসেলসের নির্ধারিত সময়সীমায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থাৎ ৩১ আগস্টের মধ্যেই সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
পর্তুগালের শ্রমমন্ত্রী রোজারিও পালমা রামালহো এর আগে জানিয়েছেন, নতুন PSU ব্যবস্থা বাস্তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর পর্তুগাল প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিলে তা পর্যালোচনা করেই সংস্কারের শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকার আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইইউর কাছে অর্থ ছাড়ের আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কমিশনের অনুমোদন মিললে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৬২০ মিলিয়ন ইউরো ছাড় করা হতে পারে।
এদিকে নতুন সামাজিক ভাতা ব্যবস্থা নিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী সোশ্যালিস্ট পার্টি (PS) শর্তসাপেক্ষে সংস্কার পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছে। দলটির দাবি, নতুন ব্যবস্থায় বিদ্যমান সামাজিক সুবিধা কোনোভাবেই কমানো যাবে না এবং ভাতার পরিমাণ ডিক্রি-আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে সংসদীয় তদারকি নিশ্চিত থাকে।
তবে আলোচনার সময় নাগরিকদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্য মূল্যায়নের নিয়ম পরিবর্তনের মতো কয়েকটি বিতর্কিত প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় আগামী দুই মাস পর্তুগাল সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে না পারলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৬২০ মিলিয়ন ইউরোর পুনরুদ্ধার তহবিল ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
