নাটকীয় এক লড়াই শেষে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মিসর। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় থাকায় ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টাইব্রেকারে দুর্দান্ত স্নায়ুচাপ সামলে চারটি শটই জালে জড়ায় মিসর। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হ্যারি সুটার ও ১৮ বছর বয়সী লুকাস হেরিংটনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বিদায় নিতে হয় সকারুদের।
ম্যাচের শেষ দিকে টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে নামানোর কৌশল নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে পারেনি। টাইব্রেকারে মিসরের কোনো শটই ঠেকাতে পারেননি তিনি।
বিশেষ করে তরুণ ডিফেন্ডার লুকাস হেরিংটনের জন্য ম্যাচটি হয়ে থাকে দুঃস্বপ্নের। পুরো ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স করলেও টাইব্রেকারে তার শট মিস করায় অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়। হ্যারি সুটারও একই ভাগ্য বরণ করেন।
অন্যদিকে, ম্যাচে পুরোপুরি ফিট না থাকলেও মিসরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন। গোল না পেলেও তিনি সতীর্থদের জন্য পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬টি সুযোগ সৃষ্টি করে বেলজিয়ামের লিয়েন্ড্রো ট্রোসার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ সুযোগ সৃষ্টিকারী খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন সালাহ।
শেষ বাঁশি বাজার পর মিসরের ফুটবলাররা দর্শকদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। কোচ হোসাম হাসান বিশাল মিসরীয় পতাকা হাতে উদযাপনে যোগ দেন। ইনজুরি শঙ্কা নিয়েও ম্যাচ খেলা হোসাম আবদেলমাগুইদ জার্সি খুলে দৌড়ে কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটে গিয়ে উদযাপন করেন, পরে সতীর্থরাও তার সঙ্গে যোগ দেন।
সাতবারের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়ন হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে বরাবরই হতাশার প্রতীক ছিল মিসর। ১৯৩৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর এবারের আসরের আগে তারা বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ইতিহাস বদলে দিয়ে এখন তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ ষোলোতে।
শেষ আটে ওঠার লক্ষ্যে এবার মিসরের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। তবে টাইব্রেকারের এই স্মরণীয় জয় দলটির আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
