উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি সক্রিয় মৌসুমি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের স্যাটেলাইট চিত্র, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ডপলার আবহাওয়া রাডারের প্রতিফলন (Reflectivity) এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা সংলগ্ন এলাকায় একটি সক্রিয় মৌসুমি লঘুচাপ বিরাজ করছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লঘুচাপকে কেন্দ্র করে নিম্নস্তরের বায়ুর ঘূর্ণন (Cyclonic Circulation) ও বায়ুর অভিসরণ (Low-level Convergence) স্পষ্টভাবে সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট চিত্রে লঘুচাপের চারপাশে ঘন মেঘমালার বিস্তার এবং ডপলার রাডারে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলজুড়ে বজ্রগর্ভ মেঘমালার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের মৌসুমি বায়ু লঘুচাপের কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, শুক্রবার থেকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলায় আবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ি এলাকায় ঢল নামতে পারে। পাশাপাশি পাহাড়ি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং স্থানীয়ভাবে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ কারণে বিশেষ করে পাহাড়ি ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারি আবহাওয়া সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমি লঘুচাপটির অবস্থান, গতিপথ ও তীব্রতার পরিবর্তনের সঙ্গে বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি ও মাত্রাও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন, রাডার পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
