ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET)-এ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দিল্লির কেন্দ্রীয় অংশে জনচলাচল ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার, নিট পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছে। প্রথমে যন্তর মন্তরকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও ধীরে ধীরে বিক্ষোভ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ।
আন্দোলনকারীদের সংসদ অভিমুখী কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বন্ধ হওয়া স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট ও সুপ্রিম কোর্ট স্টেশনসহ কেন্দ্রীয় দিল্লির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে রাজীব চক, মান্ডি হাউস ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে কেবল আন্তঃলাইন ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। সংঘর্ষে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে পুলিশ।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করতে হবে।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার অভিযোগ করেছে, বিরোধীরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনের কারণে জনজীবন ও সংসদীয় কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারা নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
