বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন শুল্ক কাঠামো অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ এবং রাশিয়ার পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ২৪ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (USTR) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধ্যতামূলক বা জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত নীতির আওতায় নতুন এই শুল্ক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও তাইওয়ান থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রেও শুল্ক ১০ শতাংশের বেশি হবে না।
অন্যদিকে রাশিয়ার পাশাপাশি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নতুন এই শুল্কের সঙ্গে বিদ্যমান অন্যান্য আমদানি শুল্কও যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়া ১৫০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন স্থায়ী শুল্ক কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবহনাধীন পণ্যের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক ২৮ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক নীতির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
