অভিযোগ কমেছে, নাকি অভিযোগ করাই কঠিন হয়েছে?

AIMA

AIMA কর্তৃপক্ষ অভিযোগ কমাকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখলেও Migration Technicians’ Union (STM) বিষয়টির ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।

ইউনিয়নের বক্তব্য হলো, শুধু অভিযোগের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে অভিবাসীরা আগের চেয়ে ভালো সেবা পাচ্ছেন। তাদের দাবি, অনেক অভিবাসী ই-মেইলের উত্তর না পাওয়া, টেলিফোন লাইনে যোগাযোগ করতে না পারা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ অপেক্ষার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে অভিযোগ জানানোর সুযোগ বা সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

STM আরও প্রশ্ন তুলেছে, AIMA-র নিজস্ব দায়িত্বের কিছু অংশ CLAIM কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল করে তোলা কতটা কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। ইউনিয়নের মতে, শুধু মোট অভিযোগের সংখ্যা প্রকাশ না করে কত আবেদন এখনো অমীমাংসিত, বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় গড় সাড়া দেওয়ার সময় কত, কতটি অ্যাপয়েন্টমেন্টে প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে না, রেসিডেন্স কার্ডে কত ভুল হচ্ছে এবং পৃথক অফিসগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা কত—এসব তথ্যও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

স্বাধীন প্ল্যাটফর্মে আবার অভিযোগ বেড়েছে

অভিযোগের পরিসংখ্যান নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে স্বাধীন ভোক্তা অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম Portal da Queixa-এর তথ্য থেকে।

এই প্ল্যাটফর্মে ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে AIMA-র বিরুদ্ধে ৬৪৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৮.৪৩ শতাংশ বেশি। ২৭ মে নাগাদ অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ৭৪০-এ পৌঁছায়। বছরের প্রথম তিন মাসেই ৫০৪টি অভিযোগ রেকর্ড হয়েছিল, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ বেশি।

Portal da Queixa-এর বিশ্লেষণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও নথিপত্রসংক্রান্ত সমস্যাকে অভিযোগের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি AIMA-র সঙ্গে যোগাযোগের অসুবিধা, সেবার মান ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

তবে AIMA-র নিজস্ব অভিযোগের হিসাব এবং Portal da Queixa-এর পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। দুটি তথ্য ভিন্ন অভিযোগ চ্যানেল থেকে এসেছে এবং একই পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে একটি উৎসে অভিযোগ কমা এবং অন্য উৎসে বাড়ার তথ্য পরস্পরকে সরাসরি বাতিল করে না।

বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে AIMA

পর্তুগালের পুরোনো অভিবাসন সংস্থা SEF বিলুপ্ত হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক মুলতবি আবেদন সামলাতে AIMA-কে বড় ধরনের প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালে AIMA এক মিলিয়নের বেশি ই-মেইল এবং প্রায় ৬ লাখ ফোনকল পেয়েছিল। ওই সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটির ওপর বড় ধরনের কাজের চাপ থাকার কথাও স্বীকার করেন।

বর্তমানে AIMA সেবা বিকেন্দ্রীকরণ, অনলাইন প্রক্রিয়া সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় CLAIM কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। সংস্থাটির বক্তব্য, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য অভিবাসীদের জন্য সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করা।

তবে পর্তুগালে বসবাসরত বিদেশিদের জন্য বাস্তব পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি শেষ পর্যন্ত অভিযোগের মোট সংখ্যা নয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে কত সময় লাগছে, আবেদন সম্পর্কে উত্তর কত দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে এবং অনুমোদনের পর রেসিডেন্স কার্ড হাতে পেতে কতদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে—এসবই তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় AIMA-র সেবার কার্যকারিতা নির্ধারণ করছে।