মেসির জাদুতে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Messi Goal world-cup

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে আরও একবার মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে এলো আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস, দুই গোলে পিছিয়ে পড়া এবং বিদায়ের শঙ্কা—সবকিছু পেছনে ফেলে শেষ ১১ মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

আটলান্টায় অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে মিসর। ১৫তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইয়াসের ইব্রাহিম।

পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। তবে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পট-কিক অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস, যা বিশ্বকাপের এক আসরে প্রথম কোনো ফুটবলারের এমন রেকর্ড।

প্রথমার্ধজুড়েই দুর্দান্ত খেলেন শোবেইর। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও হুলিয়ান আলভারেজের নিশ্চিত গোলও তিনি রুখে দেন অসাধারণ সেভে।

বিরতির পরও মিসরের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল অব্যাহত থাকে। ৬৬তম মিনিটে হাসেম হাসানের ক্রস থেকে মোস্তফা জিকো বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এর আগে তার একটি গোল ভিএআরে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছিল।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে কর্নার থেকে উঠে আসা বলে হেড করে ব্যবধান কমান ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সেই গোলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় আর্জেন্টিনা।

মাত্র পাঁচ মিনিট পরই নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন লিওনেল মেসি। প্রতিপক্ষের বক্সে তৈরি হওয়া জটলায় বল পেয়ে ক্রসবারের নিচে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি। এটি ছিল বিশ্বকাপে মেসির ২১তম গোল।

এই গোলের মাধ্যমে নতুন ইতিহাসও গড়েন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ছয় ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি। পাশাপাশি চলতি আসরের প্রথম পাঁচ ম্যাচে তার আট গোল—১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের এমন কীর্তি।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নাটকীয়তার চূড়ান্ত দৃশ্য দেখা যায়। লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দুর্দান্ত হেড জালে জড়িয়ে গেলে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ঠিক তার আগের মুহূর্তেই মোহাম্মদ সালাহকে বক্সে ফাউল করা হলেও পেনাল্টি না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে মিসরের বেঞ্চ।

এনজোর সেই গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩,০০০তম গোল।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন মেসি। আর হতাশায় ভেঙে পড়ে দুর্দান্ত লড়াই করা মিসর, যারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বড় চমক দেখানোর খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত পারেনি।

এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড।