উড়ন্ত শুরুর পর ধস, প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে ৩১৭ বাংলাদেশ

bangladesh-afghanistan-test-day-1-2026

শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনারের ব্যাটে প্রথম উইকেটেই উঠেছিল ১২৪ রান। কিন্তু দিনের মাঝামাঝি সময়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে সেই সুবিধার অনেকটাই নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩১৭ রান। খেলা হয়েছে ৮৪ ওভার।

দিন শেষে নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে তিনটি ফিফটি এসেছে—তানজিদ হাসান তামিম করেছেন ৮৩, শাদমান ইসলাম ৬৭ এবং লিটন দাস ৫৩ রান। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সেলিম সফি নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইয়ামিন আহমদজাই ও ইসমত আলম পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। শুকনো উইকেট ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন থেকে আরও ধীর ও স্পিন সহায়ক হয়ে উঠতে পারে—এই ভাবনা থেকেই আগে রান তুলে রাখার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। একাদশেও তিন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানকে রাখা হয়।

অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে শুরুতেই সঠিক প্রমাণ করেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও শাদমান ইসলাম।

তানজিদের ঝড়, প্রথম উইকেটে ১২৪

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন তানজিদ। আফগান পেসারদের শর্ট বলের পরিকল্পনার বিপক্ষে পাল্টা আক্রমণে যান বাঁহাতি এই ওপেনার। মাত্র ৭১ বলে করেন ৮৩ রান, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ৪টি ছক্কা।

তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে শাদমান খেলছিলেন তুলনামূলক ধীরস্থিরভাবে। দুই ওপেনারের জুটিতে আসে ১২৪ রান।

তানজিদকে ফেরান ইসমত আলম। শর্ট বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে শতকের সুযোগ হারান তিনি। মধ্যাহ্ন বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ১৩৪ রান।

শাদমান–মুমিনুলের জুটিতে নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ

তানজিদ ফেরার পরও বাংলাদেশের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামেনি। শাদমানের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ রান যোগ করেন মুমিনুল হক।

শাদমান শেষ পর্যন্ত ১১১ বলে ৬৭ রান করে মোহাম্মদ সেলিমের বলে আউট হন। তাঁর বিদায়ের পর থেকেই ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে পায় আফগানিস্তান।

১৮ বলেই তিন উইকেট, বদলে গেল চিত্র

বাংলাদেশের ইনিংসের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় সেশনে।

মুমিনুল হক ৩৯ রান করে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের শিকার হন। এরপর একই ওভারের মধ্যে মুশফিকুর রহিমকে কোনো রান করার আগেই ফিরিয়ে দেন আফগান পেসার।

এর কিছুক্ষণ পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও ফেরান লেগ স্পিনার কাইস আহমদ। শান্ত করেন ২৯ রান।

মাত্র ১৮ বলের ব্যবধানে তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে হারিয়ে বড় সংগ্রহের পথে থাকা বাংলাদেশ হঠাৎই চাপে পড়ে যায়। চা-বিরতিতে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২২৬ রান।

লিটনের ফিফটিতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৬২ রান। লিটন এক প্রান্তে ধৈর্য ধরে খেললেও মিরাজ ২৪ রান করে ইসমত আলমের বলে বোল্ড হন।

এরপর লিটন তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২১তম ফিফটি। ৮৯ বলে ৪টি চারে করেন ৫৩ রান। দলীয় স্কোর ৩০০ পেরোনোর পর মোহাম্মদ সেলিমের বলে ফেরেন তিনি।

একই বোলার দ্রুত হাসান মাহমুদকেও ফিরিয়ে দিলে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩০৫/৮।

শেষ বিকেলে নাঈম–তাইজুলের প্রতিরোধ

দিনের শেষ ভাগে আফগানিস্তান চেষ্টা করছিল বাংলাদেশকে অলআউট করে দিতে। তবে নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম সেটি হতে দেননি।

নবম উইকেটে দুজন ২৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ১২ রান যোগ করেন। দিন শেষে নাঈম ১১ এবং তাইজুল ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

আফগানদের শর্ট বলের পরিকল্পনা

বাংলাদেশের ব্যাটারদের বিপক্ষে দিনের বড় সময় শর্ট বলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে আফগানিস্তান। তানজিদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরুতে সেই পরিকল্পনা খুব একটা কাজে না এলেও পরে শাদমানসহ কয়েকজন ব্যাটারের বিপক্ষে সফল হয়েছে তারা।

সবচেয়ে সফল বোলার মোহাম্মদ সেলিম সফি। তিনি ১৯ ওভারে ৭০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ইয়ামিন আহমদজাই ২ উইকেট এবং ইসমত আলমও ২ উইকেট পেয়েছেন।