দক্ষিণ আফ্রিকায় শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার মারুফ বেপারি নামে এক প্রবাসী ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, স্থানীয় একটি গোষ্ঠীকে নিয়মিত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে গুলি করা হয়।
বুধবার রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুস্টার এলাকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন।
বৃহস্পতিবার মারুফের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।
নিহত মারুফ বেপারি ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার প্রয়াত আব্দুস সোবহান বেপারির ছেলে। তিনি তিন সন্তানের বাবা।
১৪ বছরের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা
স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে বহু বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মারুফ। সেখানে ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, বুস্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি গোষ্ঠী তার কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র্যান্ড দাবি করত।
সম্প্রতি এ চাঁদার টাকা দেওয়া নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে মারুফের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজন ও স্থানীয় প্রবাসীদের।
বর্তমানে মারুফের মরদেহ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে রয়েছে। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
‘এক মাস দোকান চালিয়েছেন, তাই এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন’
মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, ওই এলাকায় ব্যবসা করতে হলে স্থানীয় চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র্যান্ড দিতে হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফ তিন মাসের মধ্যে মাত্র এক মাস দোকান চালিয়েছিলেন, বাকি দুই মাস দোকান বন্ধ ছিল। সে কারণে তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন।
এ নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এসে মারুফকে গুলি করে বলে দাবি করেন কামরুজ্জামান।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্বজনদের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা কঠোর পরিশ্রম করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রবাসীদের কাছে চাঁদা দাবি করা অনৈতিক। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
