আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, সমাধানে কূটনৈতিক চেষ্টা সরকারের

uae-visa-cancelled-bangladeshis

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার অবগত রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

গত ৬ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা বাতিল হওয়া প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে রয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জুলাই থেকে শুরু হয় ভিসা বাতিলের জটিলতা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি সামনে আসে গত জুলাইয়ে। ছুটিতে বাংলাদেশে আসা অনেক প্রবাসী কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় জানতে পারেন, তাদের আবাসন বা কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে।

প্রথম দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ৩০ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৬২৬ বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যাটি বাড়তে থাকে। ৩ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে ৯৮৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশির তালিকাও দিয়েছিল।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিলের বিষয়টি সরকারের জানা রয়েছে বলে জানান।

সমাধানে চলছে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়া বাংলাদেশিদের বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।

বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা যেন পুনরায় কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সে বিষয়ে সমাধান খোঁজার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশিদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা নীতিতে এর আগেও বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে। PortuBangla-তে প্রকাশিত ২০২৬ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন প্রতিবেদনে দেশটির সাম্প্রতিক ভিসা ও আবাসন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

পাঁচ দফা দাবি ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের

এদিকে ভিসা বাতিলের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশিরা দ্রুত সমস্যার সমাধান ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা করে ভিসা সমস্যা দ্রুত সমাধান করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের আগের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ তৈরি করা।

পাশাপাশি পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য মাসিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা ভাতা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে পুনরায় পাঠানো সম্ভব না হলে সরকারের উদ্যোগে অন্য কোনো দেশে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন তারা।

বর্তমানে আমিরাতে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়েও উদ্বেগ

শুধু বাংলাদেশে ছুটিতে এসে আটকে পড়া ব্যক্তিরাই নন, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশির মধ্যেও ভিসা নবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা ভিসা নবায়ন, পুনরায় ভিসা পাওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতার স্থায়ী সমাধানের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলার সেবা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। এর আগে PortuBangla-তে প্রকাশিত বাংলাদেশিদের ভিজিট ভিসা দিচ্ছে UAE প্রতিবেদনে বাংলাদেশিদের জন্য ভিজিট ও দক্ষ কর্মীদের ভিসা ইস্যুতে অগ্রগতির তথ্য জানানো হয়েছিল।

আগে যা জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গত ৩০ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ঘটেনি। পাকিস্তান, মিশর, ফিলিপাইন ও নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও একই সমস্যার মুখে পড়েছেন।

সে সময় আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসও জানিয়েছিল, হঠাৎ ভিসা বাতিলের কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি অন্য কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—তা জানতে আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশির সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছানোর তথ্য সামনে আসায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।