নে অনুষ্ঠিত শেষ ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ১-১ সমতা থাকলেও যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মার্টিনেল্লি গোল করে ব্রাজিলকে স্মরণীয় জয় এনে দেন।
এই জয়ের ফলে আগামী রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ে। আগামী রোববার নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলোর সেই ম্যাচ।
এগিয়ে গিয়েছিল জাপান
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও প্রথম গোলের দেখা পায় জাপান।
২৯তম মিনিটে ব্রাজিলের মাঝমাঠের ভুল পাস কেড়ে নেন কাইশু সানো। এরপর বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে জাপানকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
ক্যাসেমিরোর হেডে সমতা
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি বাড়ায় ব্রাজিল। ৫২ মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের হেড দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি।
এরপর ৫৬তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের অ্যাসিস্ট থেকে ক্যাসেমিরো হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। গোলের ঠিক দুই মিনিট আগেও তার একটি হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল।
সুযোগ নষ্ট ভিনিসিয়ুসের
সমতা ফেরানোর পর জয়সূচক গোলের জন্য একের পর এক আক্রমণ চালায় ব্রাজিল।
৫৮তম মিনিটে টুর্নামেন্টে চার গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে দারুণ সুযোগ এলেও তার শট জাপানের গোলরক্ষক সুজুকি প্রতিহত করেন।
অন্যদিকে জাপানও পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি।
শেষ হাসি মার্টিনেল্লির
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে আক্রমণ থেকে বল পেয়ে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি জাপানের জালে বল জড়িয়ে দেন। তার এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়
এটি জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ১৫ ম্যাচে ১২তম জয়। দুই দলের মধ্যে দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে এবং জাপান মাত্র একবার জয় পেয়েছে।
বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে এটি ব্রাজিলের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র দেখায় ব্রাজিল ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল।
এছাড়া ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয় ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের বার্ষিকীতে। ১৯৫৮ সালের এই দিনেই ১৭ বছর বয়সী পেলের জোড়া গোলে সুইডেনকে হারিয়ে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেলেসাওরা।
অন্যদিকে, জাপান এবার গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র এবং তিউনিসিয়াকে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে উঠেছিল। তবে এই হারে তাদের টানা ১০ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ডও ভেঙে গেল।
