বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। তবে শুরুতেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে সেলেসাওদের। প্রতিপক্ষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। তার ওপর ইনজুরির কারণে দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমার জুনিয়রসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারকে পাচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই আনচেলত্তির প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান। অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ তাঁর পরিচিত ৪-২-৩-১ ফরমেশনেই দল সাজাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে মরক্কোর দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ঠেকানোই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
গোলপোস্টের নিচে থাকবেন অভিজ্ঞ অ্যালিসন বেকার। লিভারপুলের এই গোলরক্ষক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে ভরসা জোগানোর পাশাপাশি মরক্কোর আক্রমণ সামাল দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন।
রক্ষণভাগে ডান প্রান্তে দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ দানিলোকে। সেন্টারব্যাকে জুটি গড়তে পারেন পিএসজির অধিনায়ক মারকুইনিয়োস ও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। বাম প্রান্তে অ্যালেক্স সান্দ্রো আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই দিকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
মাঝমাঠে অভিজ্ঞ কাসেমিরো এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ব্রুনো গিমারাইসের জুটি ব্রাজিলের ভারসাম্যের মূল শক্তি হতে পারে। কাসেমিরো প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙার দায়িত্বে থাকবেন, অন্যদিকে গিমারাইস বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগের সৃজনশীল দায়িত্ব পড়তে পারে লুকাস পাকেতার কাঁধে। তাঁর নিখুঁত পাস ও সুযোগ তৈরি করার দক্ষতার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে ব্রাজিলের আক্রমণ।
দুই উইংয়ে থাকবেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া। বাম প্রান্তে ভিনিসিয়ুসের গতি ও ড্রিবলিং এবং ডানদিকে রাফিনিয়ার আক্রমণাত্মক ফুটবল মরক্কোর রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
স্ট্রাইকার হিসেবে একাদশে দেখা যেতে পারে মাতেউস কুনিয়াকে। সাম্প্রতিক সময়ে ভালো ছন্দে থাকা এই ফরোয়ার্ডের দিকে গোলের দায়িত্ব থাকবে।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ
অ্যালিসন বেকার; দানিলো, মারকুইনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, অ্যালেক্স সান্দ্রো; কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারাইস; লুকাস পাকেতা; রাফিনিয়া, মাতেউস কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে জয় দিয়ে মিশন শুরু করতে চাইবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে নেইমারকে ছাড়া আনচেলত্তির দল কতটা কার্যকর হতে পারে, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
