হাজার হাজার স্বাগতিক সমর্থকের উচ্ছ্বাস আর গর্জনের মাঝে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার নিজেদের মাটিতে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কানাডা। টরন্টোর স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লক্ষ্য ছিল জয় দিয়ে ঐতিহাসিক মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখা। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় অধরাই থেকে গেছে, তবে ১-১ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে স্বাগতিকরা।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বমঞ্চে কানাডার রেকর্ড ছিল হতাশাজনক। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে অভিষেকের পর তিন ম্যাচের সবকটিতেই হেরে বিদায় নেয় দলটি। এরপর ৩৬ বছর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফিরলেও ভাগ্য বদলায়নি। আলফোনসো ডেভিসের সৌজন্যে প্রথম গোল পেলেও বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর কাছে হেরে আবারও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল কানাডাকে।
অর্থাৎ, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বকাপে খেলা ছয় ম্যাচের সবকটিতেই হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল উত্তর আমেরিকার দেশটির।
নিজেদের মাটিতে সেই দুঃস্বপ্নের ইতিহাস বদলানোর মিশনে নেমে প্রথম ধাক্কা খায় কানাডা। ম্যাচের ২১তম মিনিটে জোভো লুকিচের হেডে এগিয়ে যায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় আবারও পুরনো হতাশা ফিরে আসার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যাওয়া এক কানাডার দেখা মেলে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে কাইল লারিনের দারুণ কোনাকুনি শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। তার গোলেই টরন্টো স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসের বন্যা বয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হলে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জনের কীর্তি গড়ে কানাডা।
বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ হারার পর নিজেদের মাটিতে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম পয়েন্ট তুলে নেওয়া কানাডার জন্য যেন এক ঐতিহাসিক জয়ই। তাই ট্রফি না জিতেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ও স্মরণীয় রাত উদযাপন করেছে জেসি মার্শের দল।
