কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম আকাশে রহস্যময় দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আকাশজুড়ে দেখা যাওয়া এই অস্বাভাবিক আলোর রেখা ঘিরে আতঙ্ক, কৌতূহল ও নানা জল্পনা শুরু হয়।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় এ দৃশ্য দেখা যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম আকাশে দীর্ঘ আলোর মতো একটি রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠলে সৈকতে থাকা পর্যটক ও স্থানীয়রা বিস্মিত হয়ে পড়েন। অনেকেই মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করেন।
সৈকতে উপস্থিত আব্দুর রহিম নামের এক পর্যটক বলেন,
“হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই। দেখতে অনেকটা যুদ্ধের সময় ছোড়া মিসাইলের মতো মনে হচ্ছিল।”
আরেক পর্যটক সাইফুর রহিম বলেন,
“পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। বিষয়টি অদ্ভুত হলেও বেশ আকর্ষণীয় লেগেছে।”
তবে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রাকৃতিক বা আবহাওয়াজনিত ঘটনা নয়।
এদিকে বিমানবাহিনীর একটি গোয়েন্দা সূত্র দাবি করেছে, ভারতের সম্ভাব্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এই আলোর রেখা দেখা যেতে পারে। সূত্রটি জানিয়েছে, ভারত বঙ্গোপসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিল।
গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪ থেকে ৯ মে পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। তারা আরও দাবি করেছে, পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম The Economic Times–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ‘নোটাম’ জারি করা হয়েছিল। এতে ওড়িশার ড. এ পি জে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে থেকে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করা হয়।
উল্লেখ্য, ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাগুলোর একটি বড় অংশ এই দ্বীপ থেকেই পরিচালিত হয়ে থাকে।
