দেশের ৫ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি নির্ভর করবে বৃষ্টির ওপর

9 districts at risk of floods

দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবারের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আগের দিন যেখানে ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল, শুক্রবার তা কমে পাঁচটিতে নেমে এসেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শুক্রবার সকাল ৯টার তথ্যভিত্তিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি মূলত দেশের ভেতরে এবং উজানে বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, গতকালের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আগামী দিনের বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

এর মধ্যে—

  • সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
  • মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
  • কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
  • মনু নদীর পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।
  • খোয়াই নদীর পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ৪৩টিতে হ্রাস এবং ৫টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে দেশের ভেতরে ও উজানে বৃষ্টির প্রবণতাই নদ-নদীর পানির উচ্চতা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে।