দাপুটে জয়ে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

morocco-vs-canada-world-cup-2026-quarter-final

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল মরক্কো। শুরুতে চাপে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

শনিবার অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে মরক্কোর হয়ে জোড়া গোল করেন আজ্জেদিন ওনাহি। অপর গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি। যদিও স্কোরলাইন যতটা একপেশে, ম্যাচের চিত্র ছিল তার ঠিক উল্টো। পুরো প্রথমার্ধে আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করেছিল কানাডা, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে তাদের।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। ম্যাচের প্রথম ২৮ মিনিট পর্যন্ত মরক্কো গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। অন্যদিকে তানি ওলুওয়াসেয়ি একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

ম্যাচের ২২তম মিনিটেই ধাক্কা খায় মরক্কো। টুর্নামেন্টে তিন গোল করা ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন সুফিয়ান রাহিমি।

প্রথমার্ধে নিজেদের খেলায় সন্তুষ্ট ছিলেন না মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। টাচলাইনে একাধিক ভুল পাস ও অপ্রয়োজনীয় ভুল দেখে তাকে হতাশা প্রকাশ করতেও দেখা যায়।

তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০তম মিনিটে দারুণ পরিকল্পিত এক ফ্রি-কিক থেকে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নিচু পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন আজ্জেদিন ওনাহি। এই গোলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় কানাডা। কিন্তু একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন বুনু এবং মরক্কোর রক্ষণভাগ। ৭৯তম মিনিটে তাজন বুকানানের দূরপাল্লার শটও দুর্দান্তভাবে রুখে দেন মরক্কোর এই গোলরক্ষক।

কানাডা যখন সমতার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করছিল, তখন পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মরক্কো। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ওনাহি। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে আবারও দিয়াজের পাস থেকে গোল করে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি।

ম্যাচ শেষে মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বলেন,

“বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। কানাডা দুর্দান্ত খেলেছে এবং প্রথমার্ধে আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলেছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তারা যে ফাঁকা জায়গা ছেড়ে দিয়েছিল, আমরা সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পেরেছি।”

মরক্কোর মিডফিল্ডার নিল এল আইনাউইও কানাডার প্রশংসা করে বলেন,

“প্রথমার্ধে তাদের প্রেসিং আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলেছিল। তবে এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমরা কখনও হাল ছাড়ি না, আজও সেটাই প্রমাণ হয়েছে।”

পরিসংখ্যানেও ম্যাচে এগিয়ে ছিল কানাডা। তারা ১০টি শট নেয়, যেখানে মরক্কোর ছিল মাত্র ৫টি। কর্নারেও ১১-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল সহ-আয়োজকরা। প্রতিপক্ষের বক্সে বল স্পর্শের সংখ্যাও ছিল কানাডার অনেক বেশি। তবে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় বড় পার্থক্য গড়ে দেয় মরক্কো। লক্ষ্যে রাখা চারটি শটের তিনটিই জালে পাঠিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় জয় তুলে নেয় ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্টরা।

এই জয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল মরক্কো। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী দল।