তিন মাসে ২২ হাজারের বেশি AIMA মামলা নিষ্পত্তি, কমছে অভিবাসন জট

AIMA-News

পর্তুগালের প্রশাসনিক ও কর আদালতের (CSTAF) গঠিত বিশেষ বিচারিক টাস্কফোর্স মাত্র তিন মাসে ২২ হাজার ৪৩৬টি অভিবাসনসংক্রান্ত মামলার রায় দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মামলার জট কমাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম Diário de Notícias-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে টাস্কফোর্স কাজ শুরু করার সময় আদালতে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার মামলা ঝুলে ছিল। তিন মাসে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা মোট জটের প্রায় ২০ শতাংশ।

প্রতিদিন গড়ে ২৪৭টি মামলার নিষ্পত্তি

তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্স প্রতিদিন গড়ে ২৪৭টি মামলার রায় দিয়েছে। প্রতি বিচারক দৈনিক গড়ে প্রায় আটটি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।

এপ্রিল মাসে ৫ হাজার ৬৯১টি মামলার রায় দেওয়া হলেও মে মাসে এই সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৭০৫টিতে পৌঁছে। জুনেও উচ্চগতির কার্যক্রম অব্যাহত রেখে ৮ হাজার ৪০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।

এ ছাড়া এই সময়ে বিচারকরা ৪৭ হাজারের বেশি প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন, যার মধ্যে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ, তথ্য যাচাই এবং অন্যান্য বিচারিক প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কেন তৈরি হয়েছিল এত মামলা?

মামলাগুলোর বেশিরভাগই পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা AIMA-এর দীর্ঘসূত্রতার কারণে সৃষ্টি হয়েছে।

এসব মামলার মধ্যে রয়েছে—

  • পরিবার পুনর্মিলন (Family Reunification) আবেদন,
  • রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু,
  • এবং CPLP রেসিডেন্স পারমিট-সংক্রান্ত জটিলতা।

পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে চালু হওয়া CPLP পারমিটের কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বিধিমালা না থাকায় অনেক আবেদনকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

অনেক অভিবাসী এখনও অনিশ্চয়তায়

বর্তমান সরকার আইন সংশোধন করে আদালতের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিলেও হাজারো আবেদনকারী এখনও আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

আদালতের চূড়ান্ত আদেশ ছাড়া অনেক বিদেশি নাগরিকের কাছে কেবল মামলা দায়েরের প্রমাণপত্র রয়েছে। তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ এটিকে বৈধ বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে না।

ফলে অনেক অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশ ত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন বিচারিক অবকাশের কারণে টাস্কফোর্সের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ছয় মাসব্যাপী কর্মপরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে। আদালতের আশা, এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অভিবাসনসংক্রান্ত মামলার জট আরও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।