পর্তুগালের বিমানবন্দরগুলো বিদেশি যাত্রীদের কাছ থেকে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ

portugal-ees-biometric-entry-exit-system

পর্তুগালের বিমানবন্দরগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের যাত্রীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শতভাগ কার্যকর করা হয়েছে। ইউরোপীয় Entry/Exit System (EES)-এর আওতায় ৬ সেপ্টেম্বর থেকে পর্তুগালে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের মুখের ছবি ও আঙুলের ছাপসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ বা যাচাই করা হচ্ছে।

পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো গত ২৭ আগস্ট লিসবনের হাম্বার্তো দেলগাদো বিমানবন্দর পরিদর্শনের সময় নতুন ব্যবস্থার বিষয়ে জানান। তিনি বলেন, ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইইউর বাইরের যাত্রীদের ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে বিমানবন্দরগুলোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

কী তথ্য নেওয়া হবে?

EES-এর আওতায় স্বল্পমেয়াদি সফরে শেনজেন এলাকায় প্রবেশকারী ইইউ-বহির্ভূত যাত্রীদের পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথির তথ্য, মুখের ছবি এবং আঙুলের ছাপ রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে যাত্রী কখন ও কোন সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ বা বের হচ্ছেন, সেই তথ্যও ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

এর ফলে প্রচলিতভাবে পাসপোর্টে প্রবেশ ও প্রস্থানের সিল দেওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রেই আর থাকবে না। ডিজিটাল রেকর্ডের মাধ্যমে কোনো যাত্রী অনুমোদিত সময়ের বেশি শেনজেন এলাকায় অবস্থান করছেন কি না, সেটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

সব বিদেশি যাত্রীর জন্য একই নিয়ম নয়

নতুন ব্যবস্থা সব বিদেশি নাগরিকের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়। মূলত স্বল্পমেয়াদি সফরে শেনজেন এলাকায় আসা ইইউ-বহির্ভূত নাগরিকদের EES-এর আওতায় আনা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের নাগরিকদের EES-এ নিবন্ধন করতে হয় না। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা বা নির্দিষ্ট ধরনের রেসিডেন্স পারমিটধারীসহ আরও কিছু শ্রেণির যাত্রীও এর বাইরে থাকতে পারেন।

বাংলাদেশসহ ইইউ ও সংশ্লিষ্ট অব্যাহতিপ্রাপ্ত দেশের বাইরে থেকে স্বল্পমেয়াদি সফরে পর্তুগাল বা অন্য কোনো শেনজেন দেশে যাওয়া যাত্রীদের তাই নতুন সীমান্ত প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

লিসবন, পোর্তো ও ফারোতে বাড়তি চাপের আশঙ্কা

পর্তুগাল সরকারের মতে, সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে লিসবন, পোর্তো ও ফারো বিমানবন্দরে। প্রধানমন্ত্রী মন্টেনেগ্রো জানিয়েছেন, প্রযুক্তি, জনবল এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে আগের তুলনায় অপেক্ষার সময় কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে শতভাগ বায়োমেট্রিক পরীক্ষা চালু হওয়ার পরও কিছু চ্যালেঞ্জ থেকে যেতে পারে।

এর আগে বায়োমেট্রিক পরীক্ষা চালুর পর দীর্ঘ সারির কারণে লিসবন, পোর্তো ও ফারো বিমানবন্দরে কয়েক দফা সাময়িকভাবে তথ্য সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের ফ্লাইট মিস করা ঠেকাতেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্তুগালের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে অতিরিক্ত ৩৬৭ জন PSP কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে লিসবনে ১৭০ জন, পোর্তোতে ৭৮ জন, ফারোতে ৬৯ জন, ফুনচালে ২৯ জন এবং আজোরেসে ২১ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত হয়েছেন।

কেন চালু করা হয়েছে EES?

ইউরোপীয় কমিশনের মতে, EES চালুর মূল লক্ষ্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা, অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা করা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা। এর মাধ্যমে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী যাত্রী এবং ভুয়া বা জাল নথি ব্যবহার করে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা শনাক্ত করা সহজ হবে।

EES-এর ধাপে ধাপে কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর। ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল থেকে শেনজেন এলাকার বাহ্যিক সীমান্তগুলোতে ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হয়। পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশ যাত্রীজট সামলাতে কিছু ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করার সুযোগ ব্যবহার করেছিল। এখন সেই নমনীয়তার মেয়াদ শেষ হওয়ায় পর্তুগাল শতভাগ তথ্য সংগ্রহের দিকে যাচ্ছে।

পর্তুগালে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ইইউ-বহির্ভূত যাত্রীদের বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে বিমানবন্দরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। ফলে পরবর্তী ফ্লাইট বা সংযোগকারী যাত্রা থাকলে হাতে পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।