পর্তুগালে তীব্র তাপপ্রবাহের সময় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট আইনি নির্দেশনা না থাকায় কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যমান আইনে কিছু সাধারণ নির্দেশনা থাকলেও কোন পরিস্থিতিতে কাজ বন্ধ রাখতে হবে, কর্মঘণ্টা কমাতে হবে বা অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। ফলে অধিকাংশ সিদ্ধান্তই নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভর করছে।
কারখানায় ৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা
ভালে দো আভে (Vale do Ave) অঞ্চলের একটি জুতা কারখানায় কর্মরত এক নারী শ্রমিক (ছদ্মনাম কনসেইসাও) জানান, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে উৎপাদন বিভাগের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি পৌঁছে গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, উৎপাদন ইউনিটটি ভবনের নিচতলায় (বেসমেন্টে) অবস্থিত। সেখানে জানালা বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা নেই। উৎপাদন মেশিন থেকে নির্গত অতিরিক্ত তাপে পরিবেশ আরও অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, পরে একটি বহনযোগ্য শীতলীকরণ যন্ত্র বসানো হলেও বিশাল কর্মস্থলের জন্য সেটি কার্যকর হয়নি।
“আমি যেখানে কাজ করি, সেখানে কোনো পার্থক্যই অনুভব করি না,” বলেন ওই কর্মী।
আইন থাকলেও নেই নির্দিষ্ট নির্দেশনা
বর্তমান পর্তুগিজ শ্রম আইন অনুযায়ী, নিয়োগকর্তার দায়িত্ব কর্মীদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।
তবে শ্রম অধিকার সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে, সে বিষয়ে আইনে স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নেই।
ফলে কোথাও কর্মঘণ্টা কমানো হচ্ছে, কোথাও অতিরিক্ত বিরতি দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে কোনো পরিবর্তনই আনা হচ্ছে না।
শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহের ঘটনা বাড়ছে। তাই পর্তুগালের শ্রম আইনেও এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার সময় কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিরাপদ পানীয় জল, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন হলে কর্মঘণ্টা পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয়গুলো আইনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, তাপপ্রবাহে দীর্ঘ সময় কাজ করলে শ্রমিকদের হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, শারীরিক ক্লান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
