অনলাইন হাজিরা দিতে গাছে উঠলেন প্রধান শিক্ষক, ভাইরাল রাঙামাটির সেই ছবি

rangamati-teacher-climbs-tree-for-attendance

অনলাইন হাজিরার ছবি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে গাছে উঠেছেন এক প্রধান শিক্ষক—এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরে জানা যায়, ছবিটি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

ছবিতে দেখা যাওয়া শিক্ষক হলেন বাঘাইছড়ির পাগয্যাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–এর প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের আশপাশে মোবাইল নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই গাছে উঠে হাজিরার ছবি পাঠাতে হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নে অবস্থিত। দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরেই মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে।

প্রধান শিক্ষক আবু তাহের বলেন, “প্রথমে বিদ্যালয়ের ছাদে উঠেও নেটওয়ার্ক পাইনি। পরে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় গিয়েও সংযোগ মেলেনি। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হই।”

তিনি জানান, সম্প্রতি সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হচ্ছে।

তবে পাহাড়ি অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে এমন নির্দেশনা কার্যকর করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, নেটওয়ার্ক সমস্যার সমাধান না হলে দুর্গম এলাকার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিতে পারবেন না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাঘাইছড়িতে মোট ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অনলাইন হাজিরার প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয়ের তথ্য পাওয়া গেলেও ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের হাজিরা পাওয়া যায়নি।

বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা বলেন, যেসব এলাকায় ফোরজি নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখানকার বিদ্যালয়গুলো অনলাইনে হাজিরা পাঠিয়েছে। আর নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার বিদ্যালয়গুলো এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য দিয়েছে।

এদিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটির ৭০৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৫৩৮টির অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি বিদ্যালয় এখনও মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, “গাছে উঠে হাজিরা দিতে হবে—এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যেসব বিদ্যালয়ে নেটওয়ার্ক নেই, সেগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।