অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে স্পেন। এই জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পুরুষদের বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের দেশটি।
নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি প্রত্যাশিত রোমাঞ্চ উপহার দিতে পারেনি। ম্যাচজুড়ে দুই দলের লড়াই ছিল বেশ রক্ষণাত্মক এবং মাঝমাঠকেন্দ্রিক। বল দখল ও আক্রমণে স্পেন এগিয়ে থাকলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
স্পেন প্রথমার্ধেই কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে। লামিনে ইয়ামাল ও মিকেল ওইয়ারসাবালের শট আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন। অন্যদিকে, লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে স্পেনের রক্ষণভাগ। পুরো ম্যাচে তিনি মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হন, সেটিও লক্ষ্যে ছিল না।
ম্যাচের শেষদিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার জন্য। অতিরিক্ত সময় শুরুর ঠিক আগে স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বেপরোয়া ট্যাকলের দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ফলে ১০ জন নিয়ে অতিরিক্ত সময় খেলতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগাতে বেশি সময় নেয়নি স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় নিকো উইলিয়ামসের হেড থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন ফেরান তোরেস। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ম্যাচজুড়ে একাধিক অসাধারণ সেভ করে আর্জেন্টিনাকে লড়াইয়ে রাখেন। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে লামিনে ইয়ামালের ফ্রি-কিক রুখে দেন তিনি। অতিরিক্ত সময়েও নিকো উইলিয়ামসের হেড ঠেকিয়ে দেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তোরেসের শট আর আটকাতে পারেননি।
বিশ্বকাপজুড়ে ধীরে শুরু করলেও নকআউট পর্বে নিজেদের সেরা ফুটবল উপহার দেয় স্পেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পরাজিত করার পর ফাইনালেও আধিপত্য বজায় রেখে শিরোপা নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতল স্পেন। একই সঙ্গে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশ একই সময়ে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করল।
অন্যদিকে, শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেল আর্জেন্টিনার। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির এটি যদি শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হয়ে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে তার বিদায় হলো হতাশার পরাজয় দিয়েই। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল করে দলের সাফল্যে বড় অবদান রেখেছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।
