পেনাল্টি মিসের পর দেম্বেলের নায়কোচিত ফেরা, পিএসজির টানা ষষ্ঠ জয়

strasbourg-psg-dembele

পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলে তখনই সমতায় ফিরতে পারত পিএসজি। কিন্তু উসমান দেম্বেলের শট গেল বাইরে। সুযোগ নষ্টের হতাশা অবশ্য বেশিক্ষণ সঙ্গী হয়নি ফরাসি ফরোয়ার্ডের। সতীর্থকে দিয়ে সমতাসূচক গোল করানোর পর নিজেই দলকে এগিয়ে নিলেন। শেষে দেজিরে দুয়ের গোলে নিশ্চিত হলো পিএসজির আরেকটি জয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) লিগ আঁতে স্ত্রাসবুরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও ৩–১ গোলে জিতেছে লুইস এনরিকের দল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা ষষ্ঠ জয়। লিগে টানা চার জয়ে সাত ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত শীর্ষেও উঠেছে প্যারিসের ক্লাবটি। সমান পয়েন্টের মোনাকোর চেয়ে বেশি গোল করার সুবাদে এগিয়ে আছে তারা; তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের এই পর্বের ম্যাচ বাকি।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪–২ গোলে হারানোর তিন দিন পরই এই ম্যাচ। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে সেই একাদশে আটটি পরিবর্তন আনেন এনরিকে। দেম্বেলসহ বেশ কয়েকজন নিয়মিত খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রেখে শুরু করেন তিনি।

পরিবর্তিত একাদশ নিয়ে শুরুটা ভালো হয়নি পিএসজির। ১৭ মিনিটে জিওভান্নি রেইনার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। তাঁর শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় স্ত্রাসবুরের ১–০ ব্যবধানের লিড নিয়ে।

বিরতির পরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিক দল। তবে গোলরক্ষক মাতভেই সাফোনভের গুরুত্বপূর্ণ সেভ পিএসজিকে ম্যাচে রাখে। অন্যদিকে দলকে ফেরাতে দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচটি বদলি নামান এনরিকে। মাঠে আসেন ভিতিনিয়া, নুনো মেন্দেস, দুয়ে, আশরাফ হাকিমি ও দেম্বেলে।

এরপরই বাড়তে থাকে পিএসজির আক্রমণের চাপ। দুয়ের শট পাপে দেম্বা দিওপের হাতে লাগায় ভিএআর পর্যালোচনার পর পেনাল্টি পায় সফরকারীরা। কিন্তু ৭২ মিনিটে স্পটকিক বাইরে মেরে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট করেন দেম্বেলে।

পাঁচ মিনিট পর সেই ভুলের প্রায়শ্চিত্তের প্রথম ধাপটি সারেন তিনি। ডান দিক থেকে তাঁর ক্রসে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ইলিয়া জাবারনি। ৭৭ মিনিটে সমতা ফেরার পর জয়ের জন্য আরও জোরালো আক্রমণ শুরু করে পিএসজি।

৮৫ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের কাছ থেকে দেম্বেলের নিচু শট স্ত্রাসবুরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে। পেনাল্টি মিস করা ফরোয়ার্ডই হয়ে ওঠেন ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রধান কারিগর। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে দুয়ে গোল করলে জয় নিশ্চিত হয় পিএসজির।

শেষ দিকে অবশ্য আরেকটি ধাক্কা সামলাতে হয়েছে সফরকারীদের। চোট পেয়ে নুনো মেন্দেস উঠে যাওয়ার সময় পাঁচটি বদলিই ব্যবহার করে ফেলেছিল পিএসজি। ফলে বাকি সময় দশজন নিয়ে খেলতে হয় দলটিকে। মেন্দেসের চোট কতটা গুরুতর, ক্লাবের ম্যাচ প্রতিবেদনে তা জানানো হয়নি।

লিগের প্রথম তিন ম্যাচে জয়হীন থেকে একসময় ১৩তম স্থানে ছিল পিএসজি। এরপর টানা চার জয়ে পরিস্থিতি বদলে ফেলেছে তারা। সামনে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার পরীক্ষা—মঙ্গলবার ঘরের মাঠে স্প্যানিশ ক্লাবটির মুখোমুখি হবে এনরিকের দল।