যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য বার্ষিক ১ লাখ ডলারের ফি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। আদালত রায়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ধরনের কর বা ফি আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখেন না।
ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনে অবস্থিত মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন ৪২ পৃষ্ঠার এক রায়ে এই সিদ্ধান্ত দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন কর্মসংস্থানভিত্তিক এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করে। এরপর ২০ জন ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
রায়ে বিচারক সোরোকিন বলেন, এই ফি বাস্তবে একটি কর (ট্যাক্স) হিসেবে কাজ করে, যা কোনো নিয়ন্ত্রক প্রশাসনিক ফি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। ফলে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন আর্থিক বাধ্যবাধকতা আরোপ সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘনের শামিল।
বিচারক আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (INA)-এর বিভিন্ন ধারা উদ্ধৃত করলেও ওই আইনে নতুন কর আরোপের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
রায়ের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে আদালত ২০২৬ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপ্রিম কোর্টের নজিরও উল্লেখ করে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি সংক্রান্ত ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করবে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণা খাতে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য এটি স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় কর্মভিত্তিক ভিসা। প্রতিবছর হাজার হাজার প্রযুক্তি ও পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান।
সূত্র: মার্কিন জেলা আদালতের রায় ও আদালতের নথি
