যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল ঢেউ’, কংগ্রেসের দুই কক্ষ হারিয়ে চাপে ট্রাম্প

us election 2026

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬-এ কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটের পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও দলটির জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। এর ফলে তাঁর মেয়াদের বাকি দুই বছরে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও আইন প্রণয়নের উদ্যোগে বিরোধীদের প্রভাব বাড়বে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের একাধিক শক্ত ঘাঁটিতে সাফল্য পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। মেইনে পাঁচ মেয়াদের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস তাঁর জয় নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল ডেমোক্র্যাটরা।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ৫৪ আসন

এবিসি নিউজের হালনাগাদ ফলাফলে ১০০ সদস্যের সিনেটে ডেমোক্র্যাট শিবিরের আসনসংখ্যা ৫৪ দেখানো হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১ আসন ছাড়িয়ে যাওয়ায় উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়েছে তাদের। তবে সব আসনের ফল নির্ধারিত না হওয়ায় চূড়ান্ত ব্যবধান তখনো স্পষ্ট হয়নি।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে যাওয়ায় প্রেসিডেন্টের মনোনীত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও বিচারকদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও শুনানির সুযোগও বাড়বে বিরোধীদের।

প্রতিনিধি পরিষদেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পূর্বাভাস দিয়েছে প্রধান মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। ৪৩৫ সদস্যের এই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। সিএনএনের বরাতে প্রকাশিত একটি নির্দিষ্ট সময়ের হিসাবে ডেমোক্র্যাটদের ২২০ এবং রিপাবলিকানদের ১২৬টি আসনে জয় দেখানো হয়েছিল। তখন পর্যন্ত রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ২৫টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছিল দলটি। গণনা এগোনোর সঙ্গে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় ট্রাম্পের নীতিগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে। নতুন আইন পাসের আলোচনার পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও কংগ্রেসে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে তাঁকে।

ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন

সিএনএনের নির্বাচনী বিশ্লেষণে গ্রামীণ এলাকা এবং লাতিনো ভোটার অধ্যুষিত কয়েকটি অঞ্চলে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমার চিত্র উঠে এসেছে। দুই বছর আগে যেসব এলাকায় ট্রাম্প বড় ব্যবধানে এগিয়েছিলেন, সেখানেও এবার ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।

মূল্যস্ফীতি, শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেসের ক্ষমতার এই পরিবর্তনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছর নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।