বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন একটি শর্ত যুক্ত হয়েছে। এখন থেকে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বি-১ (ব্যবসায়িক) এবং বি-২ (পর্যটন) ভিসা আবেদনকারীদের ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হবে।
সোমবার (৮ জুন) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ড পরিশোধ করতে হবে।
যেভাবে কাজ করবে ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম
মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী—
- ভিসা সাক্ষাৎকার শেষে কোনো আবেদনকারী যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা তাকে বন্ড পরিশোধের নির্দেশনা এবং pay.gov-এর সরাসরি লিংক প্রদান করবেন।
- আবেদনকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
- বন্ড জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি একবার প্রবেশযোগ্য (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ইস্যু করা হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত কিছু নির্দিষ্ট পোর্ট অব এন্ট্রি ব্যবহার করতে হবে।
- ভিসার সব শর্ত পূরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে এবং জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
কোন শর্তে বন্ড ফেরত পাওয়া যাবে?
দূতাবাস জানিয়েছে, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ভিসার শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে—
- যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজ করা যাবে না।
- অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করা যাবে না।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে আসতে হবে।
এসব শর্ত পূরণ হলে জমাকৃত বন্ডের পুরো অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
কারা এই নিয়মের আওতায় পড়বেন?
বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই বন্ড ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে। আবেদনকারীর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় বন্ডের পরিমাণ ন্যূনতম ৫ হাজার ডলার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়া বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের প্রবণতা কমাতে এই নতুন বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। নতুন নিয়মের ফলে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর ও পর্যটন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে।
