৭ উইকেটে হেরে বিদায় বাংলাদেশের

bangladesh-vs-afghanistan odi result tri series 2026

শুরুর ধাক্কা সামলে পারভেজ হোসেন ইমন লড়লেন। সাইফ হাসানের সঙ্গে গড়লেন প্রতিরোধও। কিন্তু সেই লড়াই দলকে জেতানোর মতো সংগ্রহ এনে দিতে পারল না। বাংলাদেশ–আফগানিস্তান ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে অলআউট হয় তাওহীদ হৃদয়ের দল। ১৬১ রানের লক্ষ্য আফগানিস্তান পেরিয়ে যায় ৩৫.৩ ওভারে, তিন উইকেট হারিয়ে। হাতে তখনো বাকি ৮৭ বল।

এই জয়ে দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে ফাইনালে উঠল আফগানিস্তান। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর শারজাহয় শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। আর প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারা বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করল জয়শূন্য অবস্থায়।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরুর আশাই ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দেন ইয়ামিন আহমদজাই। টানা দুই বলে ফেরান তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারকে। তানজিদ ১ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। ব্যাটিং অর্ডার বদলে তিনে নামা সৌম্য প্রথম বলেই বোল্ড—ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে।

নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা সময় কাটিয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২৩ বলে ১৫ রান করে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ফেরেন তিনি। একই ওভারে অধিনায়ক হৃদয়ও আউট হন শূন্য রানে। সাত ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২৮ রানে ৪ উইকেট।

সেখান থেকে সাইফ ও ইমন ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। দ্রুত উইকেট পড়ার ধাক্কা সামলে পঞ্চম উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯৩ রান। তাঁদের জুটিতে অন্তত লড়াই করার মতো সংগ্রহের আশা জেগেছিল বাংলাদেশের।

দলীয় ১২১ রানে সাইফের বিদায়ে ভাঙে সেই প্রতিরোধ। মোহাম্মদ নবীর বলে আউট হওয়ার আগে ৮২ বলে ৪১ রান করেন ওপেনার। ইমন অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান। ৯৬ বলে ৭০ রানের ইনিংসে মারেন পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। বাংলাদেশের ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

কিন্তু ইমনের পাশে আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। সাইফের বিদায়ের পর শেষ ছয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করতে পারে মাত্র ৩৯ রান। রশিদ খানের বলে এলবিডব্লু হয়ে ইমন ফেরেন দলীয় ১৫৬ রানে। সেখান থেকে আর চার রান যোগ করেই শেষ বাংলাদেশের ইনিংস।

শেষ চারটি উইকেটই নেন রশিদ। ৮.২ ওভারে ৩১ রানে তাঁর শিকার ৪ উইকেট। ইয়ামিন ২১ রানে ও ওমরজাই ২৭ রানে নেন দুটি করে উইকেট। নবী ও বিলাল সামি পান একটি করে। বল হাতে এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরা হন রশিদ খান।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানকেও শুরুতে দুবার ধাক্কা দেন তাসকিন আহমেদ। রহমানউল্লাহ গুরবাজকে ৬ ও সেদিকুল্লাহ আতালকে ৪ রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। ৩৯ রানে দুই উইকেট হারালেও অধিনায়ক রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরানের ব্যাটে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় আফগানরা।

ইব্রাহিম ৩৪ রান করে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন। এরপর হাশমতউল্লাহ শহিদিকে নিয়ে বাকি পথ পাড়ি দেন রহমত। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে ৬৬ রান। রহমত ৯০ বলে ৬৭ ও শহিদি ৫৪ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৩৬ রানে দুটি এবং মুস্তাফিজ ৩২ রানে একটি উইকেট নেন।