পর্তুগালে অভিবাসন সংস্থা AIMA নিয়ে আইনজীবীদের উদ্বেগ, সেবা ব্যবস্থায় বড় ঘাটতির অভিযোগ

AIMA change Portugal Residence

পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা এআইএমএতে (AIMA) জনবল সংকট, দুর্বল ডিজিটাল ব্যবস্থা এবং একেক কার্যালয়ে একেক ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণের কারণে আইনজীবীদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব সমস্যার কারণে অভিবাসীদের কার্যকর আইনি সহায়তা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আইনজীবী সমিতি—অর্ডেম দোস অ্যাডভোগাদোস।

গত ১৯ আগস্ট লিসবনের আনজোস এলাকায় এআইএমএর কার্যালয় পরিদর্শনের পর এসব উদ্বেগের কথা জানায় আইনজীবী সমিতির একটি প্রতিনিধিদল।

আইনজীবী সমিতির প্রেসিডেন্ট জোয়াও মাসানো বলেন, এআইএমএর সঙ্গে কাজ করা আইনজীবীরা যেসব সমস্যার কথা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন, পরিদর্শনের সময় সেগুলো ‘একটি একটি করে’ নিশ্চিত হয়েছে।

প্রতিনিধিদলের পর্যবেক্ষণে এআইএমএ কার্যালয়ে দীর্ঘ সারি এবং অতিরিক্ত অপেক্ষার সময় অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে। অনেক আইনজীবীকে ভোররাতেই কার্যালয়ে পৌঁছাতে হচ্ছে এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এআইএমএর অনলাইন পোর্টাল নিয়েও অভিযোগ করেছে আইনজীবী সমিতি। তাদের দাবি, পোর্টালে অনেক ক্ষেত্রে ভুল, অসম্পূর্ণ কিংবা পুরোনো তথ্য রয়েছে। ফলে আইনজীবীদের পক্ষে মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা এবং অভিবাসীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

মাসানো বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবায় আইনজীবীরা এখনো এমন সেবা-পরিবেশ পাচ্ছেন না, যা আইনে বিচারব্যবস্থার প্রশাসনে তাদের অপরিহার্য ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আইনজীবী সমিতির মতে, আইনজীবীদের সহায়তার জন্য এআইএমএতে যে পরিমাণ জনবল রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। এর ফলে সেবার গতি, দক্ষতা এবং মান—তিনটিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া টেলিফোনে কোনো অভিবাসন আবেদনের অগ্রগতি বা মামলার তথ্য জানতে চাইলে কর্মকর্তারা অনেক সময় তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অনলাইন পোর্টালে দেখতে বলেন। কিন্তু পোর্টালেই পর্যাপ্ত ও হালনাগাদ তথ্য না থাকায় আইনজীবীদের জন্য সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

কোন কর্মকর্তা বা বিভাগ একটি নির্দিষ্ট মামলার দায়িত্বে রয়েছেন, কিংবা আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে—সেটিও অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে জানা যায় না। ফলে কোনো আবেদনকারীকে তার পরিস্থিতি কবে বা কীভাবে সমাধান হতে পারে সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত ধারণা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

এআইএমএর বিভিন্ন কার্যালয়ের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনজীবী সমিতি। একই ধরনের মামলায় বিভিন্ন কার্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এর ফলে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং একই পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অসম আচরণের ঝুঁকি বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে এআইএমএ ও আইনজীবী সমিতির মধ্যে একটি স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন মাসানো। একই সঙ্গে এআইএমএর জনবল এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মাসানোর মতে, এসব পদক্ষেপের প্রভাব দ্রুতই দেখা যাবে। এতে দীর্ঘ সারি, ভোরবেলা থেকে অপেক্ষা এবং কার্যালয়গুলোর ওপর চাপ কমবে। বিশেষ করে আনজোস কার্যালয় থেকে এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক আইনজীবীকে শুধু একটি মামলার অগ্রগতি জানতে অথবা ই-মেইল ঠিকানা হালনাগাদ করতে এআইএমএ কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে।

আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, তারা এখন এআইএমএর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব সমস্যা তুলে ধরবে এবং সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবে।

মাসানো বলেন, আইনজীবীদের এআইএমএর দরজায় অপেক্ষা করে থাকতে হতে পারে না; আর যাদের আইনগত সহায়তা প্রয়োজন, তাদের তো আরও কম। আইনজীবীদের কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কোনো পেশাগত সুবিধার বিষয় নয়, বরং এটি সবার অধিকার সুরক্ষার একটি নিশ্চয়তা।

এদিকে, এআইএমএর কর্মীরাও দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও সম্পদের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। চলতি গ্রীষ্মে সংস্থাটির কর্মীরা কর্মপরিবেশের অবনতির অভিযোগে ধর্মঘটও পালন করেন। সে সময় তারা অভিযোগ করেছিলেন, অভিবাসন কর্মকর্তাদের মর্যাদা, স্থিতিশীলতা ও ভূমিকার স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। পাশাপাশি অতীতে কর্মপরিবেশ উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

আইনজীবী সমিতির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ এবং এআইএমএ কর্মীদের পূর্বের অসন্তোষ—দুই ঘটনাই পর্তুগালের অভিবাসন ব্যবস্থায় জনবল, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতির বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

সূত্র: এলইউএসএ (LUSA)