নিউইয়র্ক: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিতের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের এক ফেডারেল বিচারক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেওয়া রায়ে ম্যানহাটনের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের বিচারক জেনেট ভার্গাস নীতিটিকে ‘স্পষ্টতই বেআইনি’ এবং ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছেন।
বিচারক ভার্গাসের মতে, কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিস্তৃত ক্ষমতা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেই। তাঁর রায়ে বলা হয়েছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিদ্যমান অভিবাসন আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক, আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদার, কয়েকজন অভিবাসী ভিসা আবেদনকারী এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার চেষ্টা করা মার্কিন নাগরিকদের করা মামলায় এ রায় দেওয়া হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ক্যারিবীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও বলকান অঞ্চলের মোট ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়েছিল।
ওই সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করেছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন জনসেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এই আশঙ্কার ভিত্তিতেই ভিসা ইস্যু স্থগিত করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
তবে আদালত প্রশাসনের এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক ভার্গাসের রায়ে বলা হয়েছে, জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির আবেদনকারীর অভিবাসী ভিসা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন কংগ্রেসের নির্ধারিত অভিবাসন কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশিদের জন্য কী অর্থ?
আদালতের এই রায় বহাল থাকলে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব বাংলাদেশি পরিবারভিত্তিক বা অন্যান্য বৈধ অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করে স্থগিত নীতির কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে এই রায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে আদালতের রায়ের পর মার্কিন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং উচ্চতর আদালতে আপিল করা হয় কি না, তার ওপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতিতে আরেক ধাক্কা
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ভিসা প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধ এবং অভিবাসন কর্মসূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ এর মধ্যে রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, জাতীয়তা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে এবং অভিবাসীদের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
শুক্রবারের রায়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। প্রশাসন এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবে কি না, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে রায়ের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং উচ্চতর আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
