আইসল্যান্ডে ইইউ গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ৪০% ভোট গণনায় এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

iceland-eu-referendum-voting

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু করা হবে কি না—এ প্রশ্নে আইসল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষের ‘হ্যাঁ’ শিবির।

আংশিক ফলাফলে এখন পর্যন্ত ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫১ দশমিক ২ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এরই মধ্যে ৮৭ হাজারের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে।

তবে রাজধানী রেকিয়াভিক ও গ্রামীণ এলাকার ফলাফলে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে ইইউবিরোধী ‘না’ শিবির শক্ত অবস্থানে থাকলেও রাজধানীর দুই নির্বাচনী এলাকায় ‘হ্যাঁ’ শিবির উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।

গ্রামীণ এলাকায় ‘না’ শিবিরের দাপট

দক্ষিণাঞ্চলীয় নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ভোট গণনা শেষে ‘না’ ভোট পেয়েছে ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৪০ দশমিক ২ শতাংশ।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। প্রায় ৬ হাজার ভোট গণনা শেষে সেখানে ‘না’ শিবির পেয়েছে ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট। ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার ভোট গণনা শেষে ‘না’ ভোটের হার ৫৬ শতাংশ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ৪৪ শতাংশ।

তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লড়াই হয়েছে একেবারেই সমানে সমান। সেখানে প্রায় ১৯ হাজার ৮০০ ভোটের মধ্যে দুই শিবিরই প্রায় সমান ভোট পেয়েছে।

রাজধানীতে এগিয়ে ‘হ্যাঁ’

গ্রামীণ এলাকার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজধানী রেকিয়াভিকে। দক্ষিণ রেকিয়াভিক নির্বাচনী এলাকায় ২০ হাজারের বেশি ভোট গণনা শেষে ‘হ্যাঁ’ শিবির পেয়েছে ৫৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। ‘না’ শিবিরের ভোট ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ।

রাজধানীর উত্তরাঞ্চলেও ইউরোপপন্থীদের বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। প্রায় ২১ হাজার ভোট গণনা শেষে সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ‘না’ ভোটের হার ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ।

ফলে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে রাজধানী ও গ্রামীণ আইসল্যান্ডের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ অঞ্চলে ‘না’ ভোটের শক্ত অবস্থানের পেছনে মৎস্য ও কৃষিখাত নিয়ে উদ্বেগকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইসল্যান্ডের অর্থনীতিতে মৎস্যসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইইউর সদস্য হলে এই খাতে দেশটির নিয়ন্ত্রণ ও নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা কতটা বজায় থাকবে, তা নিয়ে অনেক ভোটারের উদ্বেগ রয়েছে।

অন্যদিকে রাজধানী রেকিয়াভিকের তুলনামূলকভাবে বেশি ইউরোপপন্থী মনোভাবের কারণে সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার বেশি হওয়ার প্রত্যাশা আগে থেকেই ছিল।

২ লাখ ৭২ হাজার ভোটার

শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় আইসল্যান্ডের ভোটকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়। এবারের গণভোটে প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্য ছিলেন।

ভোটারদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন রাখা হয়েছিল—আইসল্যান্ড কি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরু করবে?

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনের কাছাকাছি অথবা তার চেয়েও বেশি হতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ।

২০০৯ সালে আবেদন, ২০১৩ সালে আলোচনা স্থগিত

২০০৯ সালের ভয়াবহ আর্থিক সংকটের পর আইসল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য আবেদন করেছিল। তবে ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী একটি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।

এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা আবার শুরু করার পথ খুলবে। আর ‘না’ জয়ী হলে নিকট ভবিষ্যতে ইইউতে যোগদানের সম্ভাবনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

এখন পর্যন্ত ফলাফল অত্যন্ত কাছাকাছি থাকায় শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ জয়ী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রাতভর ভোট গণনা চলবে এবং আরও ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যেতে পারে দুই পক্ষের ব্যবধান।

আইসল্যান্ডের এই গণভোটের ফল শুধু দেশটির ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় সম্পর্কের জন্য নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।