গণভোটে ইইউ সদস্যপদ আলোচনা প্রত্যাখ্যান, ‘না’ ভোটে জয় আইসল্যান্ডে

iceland-eu-referendum-vote-result

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তাব গণভোটে প্রত্যাখ্যান করেছে আইসল্যান্ডের জনগণ। রেকর্ডসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত গণভোটে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার ‘না’ ভোট দিয়েছেন।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৯৯ জন বা ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৪০ জন বা ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ।

মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৩১টি ভোট পড়েছে এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ।

রাজধানীতে ‘হ্যাঁ’, অন্যান্য অঞ্চলে ‘না’র জয়

ভোটের ফলাফলে অঞ্চলভেদে বড় পার্থক্য দেখা গেছে। রাজধানী রেইকিয়াভিক নর্থ এলাকায় ইইউ আলোচনার পক্ষে ভোট ছিল বেশি। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে অন্যান্য কয়েকটি অঞ্চলে ‘না’ ভোটের বড় ব্যবধান জাতীয় ফলকে প্রভাবিত করে।

দক্ষিণ অঞ্চলে ‘না’ ভোট ছিল ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ, উত্তর-পশ্চিমে ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং উত্তর-পূর্বে ৬১ দশমিক ২ শতাংশ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে শেষ পর্যন্ত ‘না’ ভোট ৫৩ শতাংশ এবং ‘হ্যাঁ’ ভোট ৪৭ শতাংশ পাওয়া যায়।

রাতভর নাটকীয়ভাবে বদলেছে ফল

ভোট গণনার শুরুতে রাজধানী রেইকিয়াভিকের ফল আসায় ‘হ্যাঁ’ শিবির এগিয়ে ছিল। প্রথম দিকের আংশিক ফলাফলে ইইউপন্থীরা প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট নিয়ে আশাবাদী হয়ে ওঠেন।

কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকার ফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

বিশেষ করে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল অনেক এলাকায় ইইউর কোটা ভাগাভাগির নিয়ম নিয়ে দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে। এসব অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক ‘না’ ভোট আসে।

সকালের দিকে উত্তরাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক এলাকার ফল প্রকাশের পর ‘না’ শিবির স্পষ্টভাবে এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ‘হ্যাঁ’ শিবির।

অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেল ইইউ বিতর্ক

এই গণভোটের ফলের কারণে আইসল্যান্ডের রাজনীতিতে ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা অন্তত আগামী দুই বছরের জন্য পিছিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় চার লাখ মানুষের দেশ আইসল্যান্ড ২০০৯ সালের ভয়াবহ আর্থিক সংকটের পর প্রথম ইইউ সদস্যপদের আবেদন করে। তবে ২০১৩ সালে ইউরো-সন্দেহবাদী জোট ক্ষমতায় আসার পর সদস্যপদ আলোচনা স্থবির হয়ে যায়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোত্তিরের নেতৃত্বাধীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক সরকার চলতি বছর বিষয়টি আবার সামনে আনে।

সরকারের যুক্তি ছিল, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।

ইইউর সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক অপরিবর্তিত থাকবে

গণভোটে ‘না’ জয়ী হলেও আইসল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান সম্পর্কের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

আইসল্যান্ড ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইকোনমিক এরিয়া (EEA) এবং পাসপোর্টমুক্ত শেঙ্গেন অঞ্চলের সদস্য। ফলে এই দুই ব্যবস্থায় দেশটির অংশগ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

গণভোটের ফল আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও আইসল্যান্ড সরকার জনগণের সিদ্ধান্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোত্তির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থরগেরদুর কাটরিন গুনারসদোত্তির এবং শিক্ষামন্ত্রী ইঙ্গা সেল্যান্ড সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের ফল ও সরকারের পরবর্তী অবস্থান নিয়ে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।