ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে তৃতীয় কোনো দেশে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য ‘রিটার্ন সেন্টার’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে চেক প্রজাতন্ত্র। ইতালির মডেল অনুসরণ করে ইউরোপীয় পর্যায়ে এমন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আলোচনা জোরালো হচ্ছে।
চেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আদাম রোজলার বলেন, তৃতীয় দেশে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে রিটার্ন সেন্টার প্রতিষ্ঠা ইইউর বহিরাগত সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদারের কার্যকর উপায়গুলোর একটি।
ইতালির প্রস্তাবে চেকিয়ার সমর্থন
স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের ঘটনার পর ইউরোপে আবারও রিটার্ন সেন্টার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ান্তেদোসি ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীদের কাছে ইতালির মডেলে ইইউর নিজস্ব রিটার্ন সেন্টার গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
চেকিয়া এই উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তবে এসব কেন্দ্র কোথায় এবং কী ধরনের কাঠামোয় পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে।
আলবেনিয়ায় ইতালির কেন্দ্র
ইতালি ২০২৪ সালের অক্টোবরে আলবেনিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তির অধীনে একটি অভিবাসী কেন্দ্র চালু করে।
প্রথম দিকে সেখানে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা অভিবাসীদের রাখার পরিকল্পনা ছিল। ধারণা করা হয়েছিল, বছরে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কেন্দ্রটির কার্যক্রমের ধরন পরিবর্তন করা হয়। বর্তমানে এটি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হওয়া ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে ইউরোপের বাইরে অভিবাসীদের পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। ইইউ ভূখণ্ডে প্রবেশ করা কোনো ব্যক্তিকে সদস্য নয় এমন অন্য দেশে পাঠানো কতটা আইনসম্মত, তা নিয়েও বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন উঠেছে।
সেউতার ঘটনাকে সতর্কবার্তা বলছে চেকিয়া
চেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুবোমির মেতনার সেউতার ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার মতে, ইইউর বহিরাগত সীমান্তে বড় ধরনের অনিয়মিত প্রবেশ বর্তমান ইউরোপীয় ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরছে এবং এ ধরনের বড় সংকট মোকাবিলায় নতুন কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সেউতায় প্রবেশ করে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সহায়তা চেয়েছে।
ইউরোপীয় পর্যায়ে ‘রিটার্ন হাব’ নিয়ে নতুন নীতি
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জুনে ইইউর অভিবাসী প্রত্যাবাসন নীতিতে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট শর্ত ও চুক্তির ভিত্তিতে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো এমন তৃতীয় দেশে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপন করতে পারবে, যারা প্রত্যাবাসন আদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের গ্রহণে সম্মত।
তবে এসব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ‘নন-রিফাউলমেন্ট’ নীতি মেনে চলার শর্ত রাখা হয়েছে। একা থাকা অপ্রাপ্তবয়স্কদের এ ধরনের রিটার্ন হাবে স্থানান্তরের সুযোগও রাখা হয়নি।
আরও কয়েকটি দেশ আগ্রহী
জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, গ্রিস ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশও ইউরোপের বাইরে রিটার্ন সেন্টার প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
আফ্রিকার উগান্ডাসহ কয়েকটি সম্ভাব্য দেশের নামও আলোচনায় এসেছে। তবে কোন দেশে কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং কবে থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি এবং আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।
ইউরোপে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে ‘রিটার্ন হাব’ এখন ইইউর অভিবাসন নীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে নিরাপত্তা ও কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করাও ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
