পর্তুগালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটে সুখবর

portugal-student-residence-permit-30-days-aima

পর্তুগালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির অভিবাসন সংস্থা AIMA। লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের (FDUL) সঙ্গে একটি সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লক্ষ্য—যোগ্য শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক থাকলে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করা।

পর্তুগালে বসবাসরত বহু বিদেশি শিক্ষার্থীর জন্য রেসিডেন্স পারমিটের দীর্ঘসূত্রতা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে পড়াশোনার পাশাপাশি বৈধভাবে কাজ করা, বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজে বৈধ রেসিডেন্স ডকুমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

PÚBLICO Brasil-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত ব্যবস্থায় এমন আবেদনকারীও রয়েছেন যারা কয়েক বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। সেই বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রক্রিয়া দ্রুত করার এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সবার জন্য নয় ৩০ দিনের সুবিধা

তবে ‘৩০ দিনে রেসিডেন্স পারমিট’ শুনে পর্তুগালের সব বিদেশি শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবেন—এমনটি ভাবার সুযোগ নেই।

বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক বা পাইলট পর্যায়ের একটি ব্যবস্থা, যার কেন্দ্র লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ। ফলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী কিংবা পর্তুগালে নতুন আসা প্রত্যেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আবেদনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০ দিনের সময়সীমা প্রযোজ্য হচ্ছে না।

AIMA-র নিয়ম অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী রেসিডেন্স ভিসা, ঠিকানার প্রমাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রমাণ, টিউশন ফি পরিশোধের প্রমাণ এবং স্বাস্থ্যবিমা বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার আওতায় থাকার প্রমাণসহ নির্ধারিত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ নতুন উদ্যোগ আবেদনকারীর মৌলিক যোগ্যতা বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত বাতিল করছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়কে সঙ্গে নিয়ে জট কমানোর চেষ্টা

নতুন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, AIMA শুধু নিজস্ব অফিসের ওপর নির্ভর না করে বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সহযোগী হিসেবে যুক্ত করছে।

লিসবন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করায় প্রতিষ্ঠানটিকে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

এই মডেল সফল হলে পর্তুগালের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেটি এখনো দেশব্যাপী সাধারণ নিয়ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

পর্তুগালে উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য রেসিডেন্স পারমিট শুধু বৈধ অবস্থানের প্রমাণ নয়। AIMA-র বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, স্টাডির জন্য রেসিডেন্স পারমিটধারীরা তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি বা স্বনিয়োজিত পেশায় কাজও করতে পারেন।

ফলে পারমিট পেতে দীর্ঘ বিলম্ব হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ কারণে ৩০ দিনের লক্ষ্য বাস্তবে কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তা বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে।

তবে পর্তুগালে পড়তে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও মনে রাখতে হবে—এটি এখনই সব বাংলাদেশি বা সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য ৩০ দিনে রেসিডেন্স কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। কোন বিশ্ববিদ্যালয়, কোন ধরনের আবেদন এবং কোন পর্যায়ের শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় পড়ছেন, তা নিশ্চিত করেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

AIMA-র উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত সরকারি নিয়ম ও প্রয়োজনীয় নথির তালিকা পাওয়া যাবে AIMA-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে