বেতনের পেছনে রিয়াল কত খরচ করতে পারবে, বার্সেলোনা কত

real-madrid-barcelona-salary-limit

স্প্যানিশ লা লিগার ২০২৬-২৭ মৌসুমে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফসহ স্কোয়াডের পেছনে সর্বোচ্চ ব্যয়ের সীমায় সবার ওপরে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গ্রীষ্মকালীন দলবদল শেষে লা লিগার প্রকাশিত নতুন হিসাব অনুযায়ী, রিয়ালের স্কোয়াড কস্ট লিমিট ৮৩২.৭৮৬ মিলিয়ন ইউরো। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বার্সেলোনার সীমা ৫৮২.৭৬৯ মিলিয়ন ইউরো।

অর্থাৎ দুই স্প্যানিশ জায়ান্টের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো। তবে প্রচলিতভাবে একে ‘বেতনসীমা’ বলা হলেও এটি শুধু ফুটবলারদের বেতন নয়। লা লিগার হিসাবে এর মধ্যে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের নির্দিষ্ট ও পরিবর্তনশীল বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয়, বোনাস, খেলোয়াড় কেনার খরচের বার্ষিক অ্যামর্টাইজেশন এবং এজেন্ট কমিশনের মতো খরচও অন্তর্ভুক্ত হয়। একাডেমি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দলের কিছু ব্যয়ও এর অংশ।

মাঠেও নতুন মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছে বার্সেলোনা। কাতালানদের পরবর্তী ম্যাচ, বাংলাদেশ সময় এবং পুরো মৌসুমের ফলাফল জানতে PortuBangla-র বার্সেলোনার ২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলার সময়সূচি ও ফলাফল প্রতিবেদনে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। পেজটিতে লা লিগার পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতার সূচিও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

রিয়ালের সীমা ৮৩২.৮ মিলিয়ন ইউরো

রিয়াল মাদ্রিদের স্কোয়াড ব্যয়ের সীমা আগের ৭৬১.২২ মিলিয়ন ইউরো থেকে বেড়ে প্রায় ৮৩২.৭৯ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ আগের হিসাবের তুলনায় প্রায় ৭১.৫৬ মিলিয়ন ইউরো বেড়েছে তাদের ব্যয়ের সক্ষমতা।

লা লিগার সব ক্লাবের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সীমা।

বার্সেলোনার ক্ষেত্রেও বড় উন্নতি হয়েছে। গত মার্চে শীতকালীন দলবদলের পর ক্লাবটির সীমা ছিল প্রায় ৪৩২.৮ মিলিয়ন ইউরো। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের পর সেটি বেড়ে ৫৮২.৭৬৯ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে—প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর উন্নতি।

রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার স্কোয়াড ব্যয়ের সীমা

রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার স্কোয়াড ব্যয়ের সীমা

লা লিগা ২০২৬–২৭ মৌসুম, গ্রীষ্মকালীন দলবদলের পর; মিলিয়ন ইউরো

1000 750 500 250 0
€832.8M
রিয়াল মাদ্রিদ
€582.8M
বার্সেলোনা
রিয়াল মাদ্রিদ €832.786 মিলিয়ন
বার্সেলোনা €582.769 মিলিয়ন
ব্যবধান €250.017 মিলিয়ন
উৎস: LaLiga

আর্থিক অবস্থার উন্নতি বার্সেলোনার

বার্সেলোনার জন্য নতুন সীমাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েক মৌসুম ধরে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন ও দলবদলে সমস্যায় পড়েছিল ক্লাবটি।

লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস জানিয়েছেন, বার্সেলোনার ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধ করার সক্ষমতাও বিবেচ্য। লা লিগার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, বার্সেলোনা এখন আবার ১:১ নিয়মের মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দলবদলের বাজারে আগের তুলনায় স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ বেড়েছে।

২০২৬-২৭ মৌসুমের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বার্সেলোনা রদ্রি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচসহ নতুন খেলোয়াড় দলে নিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদও ইয়ান দিয়োমান্দেসহ নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করেছে।

আর্থিক উন্নতির পাশাপাশি মাঠেও জয়ের ধারা ধরে রেখেছে বার্সেলোনা। ১৯ সেপ্টেম্বর সেভিয়ার মাঠে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে কাতালানরা। এর আগে রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে ৭-২ গোলের বড় জয় পেয়েছিল বার্সেলোনা। বার্সেলোনার হালনাগাদ সূচিতেও ১৬ সেপ্টেম্বরের ম্যাচটির ফল ৭-২ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

অ্যাতলেতিকো অনেকটাই পিছিয়ে

রিয়াল ও বার্সেলোনার পর তৃতীয় সর্বোচ্চ সীমা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের—৩৬১.২৮৭ মিলিয়ন ইউরো। এরপর ভিয়ারিয়াল ১৭০.৫৬৪ মিলিয়ন, রিয়াল বেতিস ১৪২.৮৪৭ মিলিয়ন এবং অ্যাথলেটিক ক্লাব ১৩৯.২০৩ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের সীমা পেয়েছে।

অন্যদিকে লা লিগায় সবচেয়ে কম সীমা সেভিয়ার। ক্লাবটি ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রায় ২০.১৬ মিলিয়ন ইউরোর স্কোয়াড কস্ট লিমিট পেয়েছে।

তবে এই সীমাকে কোনো ক্লাবের বর্তমান খেলোয়াড়দের প্রকৃত মোট বেতন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি মূলত লা লিগার আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি ক্লাব পুরো মৌসুমে তার ক্রীড়া স্কোয়াড-সংক্রান্ত খাতে সর্বোচ্চ কত ব্যয় করতে পারবে, সেই সীমা।