রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ, তালিকায় নজরুল ইসলাম খানও

president candidate bnp

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পাশাপাশি দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক প্রভাবশালী সদস্য নজরুল ইসলাম খান-এর নামও আলোচনায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকা ৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এবং পূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্যও তিনি পরিচিত। এর আগে দলীয় জনসভায় ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ রাষ্ট্রপতি হবেন।

সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনৈতিক প্রচার থেকে নিজেকে কিছুটা আড়ালে রেখেছেন, যাতে তাকে ঘিরে কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়—যা রাষ্ট্রপতি পদে তার মনোনয়নের সম্ভাবনা আরও জোরালো করেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর সম্ভাব্য পদত্যাগের আলোচনার প্রেক্ষিতেই এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৫ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী। যদিও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকার কথা, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে নতুন সরকার গঠনের পর সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

এ সময় বঙ্গভবন ও বিভিন্ন দপ্তর থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় নিজের অপমানের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। ফলে নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।