দেশের প্রান্তিক, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে যোগ্য পরিবারগুলো সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং অন্যান্য সামাজিক সুবিধা পাবে।
সরকার জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কী?
ফ্যামিলি কার্ড হলো একটি ডেটাবেসভিত্তিক বিশেষ সরকারি পরিচয়পত্র, যার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিয়মিত আর্থিক অনুদান ও সরকারি সহায়তা পাবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে—
- পরিবারভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে
- সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে
- খাদ্য ও অন্যান্য সামাজিক ভাতা পাওয়া যাবে
- একাধিক ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে
- পরিবারের নারী প্রধানের হাতে সহায়তা পৌঁছানো হবে
সরকারের লক্ষ্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করা।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা
ফ্যামিলি কার্ড মূলত নিম্ন আয়ের ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোকে দেওয়া হবে। সম্ভাব্য যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে— বেকার বা নিম্ন আয়ের পরিবার, হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবার, নিম্ন-মধ্যবিত্ত সংকটাপন্ন পরিবার এবং সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন পরিবার।
চূড়ান্ত তালিকা স্থানীয় প্রশাসনের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করতে যা যা লাগবে
সরকার আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও স্বচ্ছ রাখতে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক তথ্য ব্যবহার করবে। আবেদন করতে সাধারণত যেসব তথ্য প্রয়োজন হবে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর
- জন্মতারিখ
- মোবাইল নম্বর
- পরিবারের সদস্যদের তথ্য
- আয় ও পেশার তথ্য
- বর্তমান ঠিকানা
- ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
স্থানীয় পর্যায়ে সরেজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য নিশ্চিত করা হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন
ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া কয়েক ধাপে সম্পন্ন হবে—
১️. স্থানীয়ভাবে তালিকাভুক্তি
প্রথম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবগ্রস্তদের তালিকা করা হবে।
২️. পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন
নির্দিষ্ট এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্প চালু করে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।
৩️. ফর্ম সংগ্রহ ও জমা
পরবর্তী সময়ে মেম্বার বা কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করে জমা দেওয়া যাবে।
৪️. অনলাইন আবেদন
পরবর্তীতে এনআইডিভিত্তিক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগ চালু করা হবে।
কী কী সুবিধা পাবেন
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারগুলো—
- মাসিক নগদ আর্থিক সহায়তা
- নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সহায়তা
- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একীভূত সুবিধা
- নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন
এসব সুবিধা পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকার বলছে, ফ্যামিলি কার্ড চালুর মাধ্যমে ভাতা বণ্টনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, দ্বৈত সুবিধা বন্ধ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
