‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সংশোধনের আলোকে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশোধিত ফল অনুযায়ী পূর্বে ঘোষিত ফলাফলের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ মিলিয়ে মোট ভোটদানকারী ভোটারের সংখ্যা কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ জন।
নতুন হিসাব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬০ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৩ কমে হয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ বিষয়ে জনগণের মতামত যাচাই করতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর ফল ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছিল।
প্রথম গেজেট অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩। এর মধ্যে বাতিল ভোট ছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬।
সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে বাতিল ভোট হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে প্রায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫। তবে বৈধ ভোট কমলেও বাতিল ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯ বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ কমেছে।
নির্বাচন কমিশন এই সংশোধনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, কমিশনের আদেশক্রমেই সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই গণভোটের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
